জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম আজাদ। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাসে এ ধরনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তিনি। আজাদ লিখেছিলেন, ‘ইচ্ছা তো অনেক, আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।’ তার এই ইচ্ছা যে এভাবে বাস্তবে পরিণত হবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি আপনজনেরা।রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় যাওয়ার সময় মেট্রোরেলের পিলার থেকে সরে যাওয়া বিয়ারিং প্যাড পড়ে মারা যান আবুল কালাম আজাদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের ওপর থেকে ভারি ধাতব যন্ত্রাংশটি নিচে পড়ে মাথায় আঘাত হানে আবুল কালামের। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয়রা জানায়, আবুল কালাম আজাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন তিনি। ব্যক্তিগত কাজেও তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় যেতেন।পারিবার সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট আবুল কালাম স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স ৫ বছর এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের বয়স ৩ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।দুর্ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পোস্ট দেন কালাম। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইচ্ছে তো অনেক, আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।’ এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাবী আছমা আক্তার বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে ওর সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। বলেছিল, দু-এক দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে, আর আমাকে ইলিশ মাছ কিনে রাখতে বলেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই শুনলাম, মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড পড়ে মারা গেছে। সংসারের হাল ধরেছিল সে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার চাই।’নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি মিয়া চোকদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই কালাম পরিশ্রমী ছিল। নিজের চেষ্টায় ঢাকায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিল। এমন আকস্মিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের ভাইটি মারা গেল। সরকার যেন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
