দলের গঠনতন্ত্র ও শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম কিশোরগঞ্জের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিনকে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের অভ্যন্তরে থাকা অপশক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জনগণের অর্জিত মহান স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যাহার ফলে আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এক চরম হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছে।’লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় শৃংখলা পরিপন্থী ও গঠনতন্ত্র বিরোধী বক্তব্য প্রদান করায় অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম কিশোরগঞ্জ এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।’এর আগে বিগত ৫ অক্টোবর অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিন তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বুধবার (২২ অক্টোবর) এডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিন নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে তিনি লাইভে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর সেই ফেইসবুক লাইভ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যোগদানের খবরটি প্রচার করতে থাকে।লাইভে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেহেতু বলেছেন, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। আমি রাজনীতি করেছি দেশের জন্য, দলের জন্য নয়। এখন মনে করছি, দেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার প্রয়োজন। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, তিনি এই দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এখন ঐক্যের সময়।’অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম মুবিন কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জিয়াউর রহমান সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ফজলুর করিমের ছেলে। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগের কমিটির সদস্য ছিলেন।এছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কিশোরগঞ্জ শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাছাড়া পারিবারিক ভাবেও তার পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
