বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড সংলগ্ন রূপালী ব্যাংকের সামনে হালিম বিক্রেতা জাহিদ ওরফে মামা জাহিদ ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।নগরীর সদর রোডে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ এক নারী ও পুরুষকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের অভিযানিক দল।অভিযান পরিচালনায় অংশ তথ্যের সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন সদর রোডে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের নেতৃত্বে রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র সামনে মো. জাহিদ সরদারের হালিম ও চটপটির দোকানের পাশে বসা এক নারীকে তল্লাশি করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।আটককৃত নারী পারভীন বেগম (৪১) বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডের বাসিন্দা। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মো. জাহিদ সরদার (৪৪), কোতোয়ালী মডেল থানার দপ্তরখানা এলাকার বাসিন্দাকেও ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।সদর রোড এলাকার ব্যবসায়ী কবির জানান, ‘প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাহিদ ওরফে মামা জাহিদ দীর্ঘদিন ধরে সদর রোডে হালিম বিক্রির আড়ালে মাদক বিক্রি করে আসছে। শুধু তাই নয়, সদর রোড এলাকাকে গড়ে তুলেছে মাদক কেনা-বেচার হাট। তার হালিম বিক্রি শুধু লোভ দেখানো। তার মূল ব্যবসাই হলো মাদক।’হাওলাদার নামে এক দোকান কর্মচারী বলেন, ‘জাহিদ গরীব ঘরের সন্তান। তিনি আনতে পান্তা ফুরিয়ে যেতে। তিনি হঠাৎ আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়েছেন। যেমন মাদক বিক্রির টাকায় নগরীর কাশিপুর এলাকায় বহুতল ভবন করেছেন।’তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ‘বিক্রি করে হালিম, কিন্তু হঠাৎ করে রাতারাতি কীভাবে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয় তা আমাদের জানা নেই। প্রশাসন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বেরিয়ে আসবে মূল রহস্য।’মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের আটকৃত জাহিদ ও পারভীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।তবে বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাদকসহ নারী ও পুরুষকে আটকের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করি। পরে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠান।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
