মাত্র ৫০ টাকা পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর হাতে প্রাণ গেলো ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র হামজার। নিখোঁজের দুই দিন পর মাদ্রাসার পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয় তার বস্তাবন্দী লাশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।নিহত মাদ্রাসাছাত্রের নাম আমির হামজা (১৩)। সে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের সায়েমউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। সে একই উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার জামাতখানা বিভাগের দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল।গ্রেপ্তার আসামির নাম, ফরহাদ রেজা (১৬)। সে উপজেলার চর চান্দড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। ফরহাদ ও নিহত আমির হামজা দু’জনই চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র। তারা দু’জন বন্ধু।আলফাডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় আমির হামজা। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং ঘাতককে গ্রেপ্তার করেন।গ্রেপ্তার ফরহাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, নিহত আমির হামজা তার কাছে ৫০ টাকা পাওনা ছিল। ঘটনার দিন পাওনা টাকা চাওয়া এবং তাকে গালিগালাজ করায় ফরহাদ প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়।এক পর্যায়ে সে আমির হামজার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর অপরাধ ধামাচাপা দিতে সে লাশটি একটি বস্তায় ভরে মাদ্রাসার পাশের ডোবার পানিতে ফেলে দেয়। ফরহাদ একাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।ফরিদপুর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান দ্রুততম সময়ে এই হত্যারহস্য উন্মোচন এবং আসামি ফরহাদ রেজাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে একমাত্র ছেলেকে এমন নৃশংসভাবে হারানোর ঘটনায় নিহত আমির হামজার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবা সায়েম উদ্দিন বিশ্বাস এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
