মাগুরায় চিকিৎসা সেবার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ । মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দিনব্যাপী মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুরে ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় এক চক্ষু শিবির চিকিৎসা ক্যাম্পেইন করা হয়। সেখানে একজন নারী ও একজন পুরুষ চিকিৎসা সেবা দিতে আসেন, যার একজনের নাম ইমরান। তিনি শালিখার একটি আই কেয়ার থেকে চিকিৎসা দিতে এসেছেন বলে জানান।এসময় রোগীরা অভিযোগ করেন, চক্ষু চিকিৎসার জন্য যেসব ওষুধ দেওয়া হচ্ছে তা ভালো চিকিৎসার জন্য নয়। এছাড়াও প্রতি পাতা ক্যাপসুল ১৩০ টাকা নিয়েছে, যা অতিরিক্ত। কম্পিউটার বাদেই সাধারণ লেন্স দিয়ে আনুমানিক পাওয়ার লিখে দিচ্ছে, যা চিকিৎসার নামে রীতিমতো প্রতারণার শামিল।এসময় চিকিৎসা পত্রে দেখা যায়, ডাক্তারের কোনো নাম বা সিল নেই। শুধু শালিখার একটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্যাড রয়েছে। সাথে একজন নারী পাশে বসে ব্যাগ থেকে ওষুধ দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় একজন শিক্ষক বলেন, তাকে ওষুধ দিয়ে ১১২০ টাকা নিয়েছে ওই লোকেরা।বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে শত্রুজিৎপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি মুছাপুরী ওই ডাক্তারকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তার চক্ষু চিকিৎসার ব্যাপারে ধারণা কম এবং তিনি যে পড়াশোনা করেছেন, তাতে চক্ষু দেওয়া ঠিক হয়নি। পরে ইউপি চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ‘আপনি তাহলে কেনো এই চিকিৎসা দিচ্ছেন?’ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় সন্দেহ হলে ওই দুজন স্থানীয় একজনের সহযোগিতায় মোটরসাইকেল যোগে পরিষদ থেকে সরে পড়ে।জানা গেছে, ওই চিকিৎসা ক্যাম্পটি পরিচালনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গণি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জানান, তিনি জানতেন না যে চক্ষু ডাক্তার হিসেবে উনি যোগ্য নন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে তাদেরকে আর আনা হবে না চিকিৎসার জন্য।এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় জনতা। কিন্তু ততক্ষণে স্থানীয় একজনের মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ওই দুজন, যারা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান ওসমান গণি মুছাপুরী ওই চিকিৎসকদেরকে নিয়ে ক্যাম্পেইন করায় এলাকার মানুষ সমালোচনা করেন চেয়ারম্যানের।শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে জানা গেছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের একটি টিম পৌঁছে যায় পরিষদ চত্বরে। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ডাক্তার এবং চেয়ারম্যান কাউকেই পাননি।এলাকাবাসী দাবি করেন, এই ধরনের চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। চোখের মতো একটি সেন্সিটিভ চিকিৎসা করানোর জন্য এই ধরনের ভূয়া ডাক্তার কেনো আনা হলো? এজন্য তারা ওই চিকিৎসক ও চেয়ারম্যানের নামে শ্লোগান দিয়ে শত্রুজিৎপুর বাজারে প্রতিবাদ মিছিল করেন। একইসাথে তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
