গত এক দশক ধরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পিচ যেন এক অমীমাংসিত ধাঁধা। বাইরের দল তো বটেই, ঘরের ছেলেদেরও রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয় এখানে। অতিরিক্ত স্পিন সহায়ক এই উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও হয়েছে সমালোচনা, হয়েছে শিরোনাম।পরিস্থিতি বদলানোর আশায় সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দায়িত্ব দেয় বিশ্বখ্যাত কিউরেটর টনি হেমিংকে। ‘কালো পিচ’ তৈরির পরিকল্পনায় নতুন সূচনার ইঙ্গিত মিললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দেখা গেল ঠিক উল্টো চিত্র। আগের চেয়ে আরও বেশি টার্ন ও বাউন্স নিয়ে স্পিনারদের জন্য স্বর্গে পরিণত হলো মিরপুর।স্পিন-সহায়ক এই পিচ মাথায় রেখেই ম্যাচের আগের দিন ভিন্ন রকম প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটাররা অনুশীলন করেছেন স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট ব্যাট দিয়ে। যাতে স্পিন বলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন। একইভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরেও জোর ছিল কেবল স্পিন অনুশীলনে।এই পরিস্থিতিতে আজ দুই দলই মাঠে নেমেছে চারজন করে জেনুইন স্পিনার নিয়ে। সঙ্গে একজন করে পার্টটাইম স্পিনারও আছে একাদশে। আর টস হেরে বোলিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকে ৩৬ ওভার পর্যন্ত পুরোপুরি স্পিন দিয়েই আক্রমণ চালায়—যা আইসিসির ফুল মেম্বার দেশগুলোর ক্রিকেটে এই প্রথম।বাংলাদেশও আজ চার স্পিনার নিয়ে নেমে ফিরিয়ে আনল প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের স্মৃতি। ২০২২ সালে সর্বশেষ চার স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। সেটি ছিল ১১৯৩ দিন আগে, গায়ানার প্রভিডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেদিনও একমাত্র পেসার ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, ঠিক আজকের মতোই।সেই ম্যাচে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে মাত্র ১৬৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে তিনিই ছিলেন নায়ক। বাংলাদেশ জিতেছিল ৪ উইকেটে, ৯ বল হাতে রেখে।আজকের ম্যাচেও একই চিত্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম পাঁচ বোলার হিসেবে ব্যবহার করেছে সবাইকে স্পিনার হিসেবে। দুই পেসার জাস্টিন গ্রিভস ও পার্টটাইম শেরফান রাদারফোর্ডের হাতে বল এসেছে ৩৬ ওভার পর। স্পিনের এমন নিরঙ্কুশ আধিপত্য বড় দলগুলোর ম্যাচে দেখা গেল এই প্রথম।টনি হেমিংকে এনে উইকেটের চরিত্র পাল্টানোর যে চেষ্টা করেছিল বিসিবি, তা আপাতত সফল হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। স্পিন সহায়ক উইকেটের পুরোনো ধারা আরও জোরালো হয়েছে এই ম্যাচে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবে আজকের ম্যাচে সেটি যেন আরও একধাপ গভীর হলো।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
