আদালতে তোলা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের। এ সময় জুবায়েদ হত্যার দ্রুত বিচার ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে রাজধানীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয় অভিযুক্তদের। তারা হলেন, বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান (১৯) এবং ফারদিন আহমেদ আয়লান। এর পরপরই মিছিল নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘উই ওয়ান্ট উই ওয়ান্ট, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘জুবায়েদের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না’, ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনিদের রক্ষা নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।বিক্ষোভ মিছিলে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘জুবায়েদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন নৃশংস কাজের সাহস না পায়।’জুবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জুবায়েদ হোসেন পুরান ঢাকার আরমানীটোলা ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলায় বর্ষা নামের ছাত্রীকে ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। ওই ছাত্রীর বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।রবিবার আনুমানিক বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলার সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে রৌশান ভিলা থেকে ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।সোমবার (২০ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর কুমিল্লার হোমনা কলাগাছিয়া এম এ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা হয়। পরে রাত ৮টায় উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে তার প্রিয় শিক্ষাঙ্গন জবি ক্যাম্পাসে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।এদিকে, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বংশাল থানায় জুবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে মাহির রহমান, বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং ফারদিন আহমেদ আয়লানের।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
