কৃষিনির্ভর জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। যেমন ফলন হয়েছে, আবার তেমনি ভালো দাম পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা কাঙ্খিত দামের আশায় ব্যাপক হারে শসা চাষ করেছেন। বাম্পার ফলন হলেও মূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক।বর্তমানে শসা মণ প্রতি ৬শ থেকে ৭শ টাকা খরচের তুলনায় দাম কম। এতে করে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মূলধন আসবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টায় কৃষকরা জমিতে ফসল চাষ করেন। কিন্তু বিভিন্ন রোগবালাই ও কাঙ্খিত দাম না পেলে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয় না। এর পরিবর্তে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশায় ভুগতে হয়। এরপরও এ উপজেলার কৃষকরা থেমে থাকেননি। তারা মৌসুম অনুযায়ী অন্য ফসল চাষের পাশাপাশি ব্যাপক হারে শসাচাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হলেও কৃষিতেই তাদের জীবন চলে। তাদের উৎপাদিত শসা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম জানান, ঋণ নিয়ে এ বছর এ বিঘা জমিতে শসাচাষ করেছি। জমি লগ্নি, শসাচাষের জন্য জমি মেরামত, জনবল ও কীটনাশকসহ সর্বমোট খরচ হয়েছে বিঘা প্রতি ৩৫ হাজার টাকা। এই সময়ে শসা বিক্রির কথা ছিল কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ২০ টাকা দরে। তবে আট টাকা দরে শসা বিক্রি করছি। তাতে লোকসানের মধ্যে থাকতে হবে।কৃষক শুক্কুর আলী বলেন, ২ বিঘা জমিতে শসার আবাদ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। ভাবলাম খরচ তুলে লাভ হবে। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে হতাশ হচ্ছি। কৃষক সালাউদ্দিন বলেন, গত বছরে শসার মণ ছিল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এবার বাজারে শসা প্রতিমণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের দামের তুলনায় এবার পাইকাররা অনেক কম দামে শসা কিনছেন। এতে মোট খরচের অর্ধেক টাকা উঠবে কিনা সন্দেহ। শসার দাম কমার কারণ পাইকারি সিন্ডিকেট, তারাই দাম কম দিচ্ছে ঢাকার বাজারে বেশি।পাইকারি সোলাইমান জানান, বিগত বছরে কৃষকদের কাছ থেকে শসা ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শসা সরবরাহ করে বেশ লাভজনক হয়েছেন। তবে এই বছরে শসার গাড়ি পাঠিয়ে চালান আনতে হিমশিম খাচ্ছেন।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, চলতি বছরে আশানুরূপ শসার ফলন ভালো হয়েছে। তবে খরচের তুলনায় দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে দাম কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে কৃষকদের।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
