জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জীবিকার সন্ধানে সুদূর ইতালিতে পাড়ি জমানো প্রবাসী মো. আলী আজগর মন্টু। কিন্তু প্রবাসে তার জীবনাবসান হওয়ায় প্রিয়জনেরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে পারলেন না সময়মতো। দীর্ঘ ১১ দিন পর কাঙ্ক্ষিত সেই কফিন যখন দেশের মাটিতে পৌঁছাল, তখন স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠল।ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার মিঠাপুর কলেজপাড়া আজ শোকস্তব্ধ। এই গ্রামেরই সন্তান আলী আজগর মন্টু (৪২)। যিনি প্রায় দুই বছর আগে বিদেশে গিয়েছিলেন স্বপ্নের খোঁজে। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা তাকে কেড়ে নিল। গত ৯ অক্টোবর ইতালির রোম শহরের সানকামেল্ল হাসপাতালে টানা ১৭ দিনের সংগ্রামের পর ব্রেন স্ট্রোকে তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন। যে মানুষটি এক বছর আগে হাসি মুখে ছুটি কাটিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিই ফিরলেন কফিনে বন্দি হয়ে।সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন তার মরদেহবাহী বিমানটি নামল, তখন যেন অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো, শুরু হলো অব্যক্ত যন্ত্রণার নতুন অধ্যায়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কফিনটি স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে যখন মন্টুর নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাল, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সদ্য সাবেক মেয়র আলী আকসাদ ঝন্টুর বড় ভাই মন্টুর দু’টি ছোট্ট সন্তানের মুখ আর স্ত্রীর কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ক্লান্তি ঘুচিয়ে যিনি হয়তো একদিন সগৌরবে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, তিনি ফিরলেন এভাবে, নিস্তব্ধ আর নিথর দেহে। বিকালে আছরের নামাজের পর আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। এরপর মিঠাপুর সামাজিক কবরস্থানের শীতল মাটিতে চিরতরে শুয়ে পড়লেন এই হতভাগ্য প্রবাসী।স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে জীবনের তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো আরও একজন প্রবাসী আজ তার নিজ জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে গেলেন। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
