শীতের আগমন শুরু হলেই রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয় খেজুর গাছের পরিচর্যা। শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি হয় বিখ্যাত খেজুরের গুড়। ইতোমধ্যেই রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ কাটায় (পরিচর্যা) ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঘার গাছিরা। গাছ কাটার ১০-১২ দিন পর থেকেই শুরু হবে রস সংগ্রহ।উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, জমির আইলে সারি সারি খেজুর গাছের সমারোহ। এসব গাছের যত্ন, রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ ঘিরে এখন চলছে প্রস্তুতির আমেজ।বাজুবাঘা ইউনিয়নের নওটিকা গ্রামের মহাতাব আলীর খেজুর গাছ আছে ৩০টি। বর্তমানে তিনি রস সংগ্রহের জন্য গাছের আগা ঝোড়া, চাঁচ দেওয়া ও খুচ পাতারি হানতে ব্যস্ত।মহাতাব আলীর ছেলে আবু বক্কর জানান, শীত মৌসুমের প্রায় চার মাস তাদের পরিবার খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করে। তবে আবু বক্কর এই ঐতিহ্যবাহী পেশাকে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। অনলাইনে নির্ভেজাল খেজুরের গুড় বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ব্যাপক সাড়া।তিনি বলেন, ‘আমার বুদ্ধি হওয়া বয়স থেকে দেখছি বাবা খেজুরের গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় বিক্রি করেন। আমি বসে না থেকে অনলাইনে এই গুড় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিই। কোন প্রকার ভেজাল ছাড়াই গুড় বিক্রি করায় মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখছে।’স্থানীয়দের মতে, বাঘার খেজুরের রস ও গুড় শুধু স্থানীয় নয়, দেশব্যাপী জনপ্রিয়। শীত এলেই এখানকার গুড়ের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এবছরও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে জোর প্রস্তুতি চলছে গাছিদের ঘরে ঘরে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
