যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে টানাবাজ চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চক্রের অধিকাংশ সদস্য নারী। তারা চিকিৎসা নিতে নয় বরং রোগী সেজে প্রতারণার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আসে। চক্রের সদস্যরা গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের টার্গেট করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সোনার গহনা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাঝে-মধ্যে চক্রের সদস্যরা আটক হলেও কার্যক্রম থেমে নেই। গত দুই দিনে রোগী সেজে অর্থ হাতানোর সময় তিন সদস্য ধরা পড়ে। তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হলেন যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে শাহাজান আলী, সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলা গ্রামের মৃত মিরাজ মোল্যার স্ত্রী সাথী বেগম ও খুলনার পাইকগাছার দক্ষিণ বড়ডাল গ্রামের মৃত বারেক সর্দারের স্ত্রী রিতা খাতুন।জানা গেছে, রোববার (১৯ অক্টোবর) বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় বহির্বিভাগে ৬ নম্বর কক্ষে ডাক্তার দেখাতে আসেন। এসময় তার ব্যাগ থেকে ১৮শ’ টাকা চুরি হাতিয়ে নেন সাথী ও রিতা বেগম। এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসক প্যারিস তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। এর আগে শনিবার হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা হীরা পারভীনের মোবাইল ফোন ও ব্যাগ চুরি করে পালানোর সময় শাহাজাহান আলী নামে একজন রোগীর স্বজনদের হাতে ধরা পড়ে। এসময় জনতা তাকে পিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করেন।এর আগে হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চক্রের দুই নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তারা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার মৃত মকবুল শেখের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪০) ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতেন গ্রামের সালাউদ্দিনের স্ত্রী শেফালী (৩৫)।সম্প্রতি, শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের মীর আব্দুল লতিফের ছেলে মোশারফ হোসেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর ভিড়ের মধ্যে চক্রের সদস্য শিউলী খাতুন তার পকেট থেকে ৩,২২২ টাকা চুরি করার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য এক রোগী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে শিউলীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।যশোর সদর উপজেলার আরবপুর গ্রামের আবু সিদ্দিকের মেয়ে নাসিমা খাতুন একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে চক্রের আরেক সদস্য শেফালী তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে আশপাশের রোগী ও স্বজনরা শেফালীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।এছাড়া, চুড়ামনকাটি গ্রামের সুলতান মীরের স্ত্রী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলে চক্রের একজন নারী পূর্বপরিচিত সেজে সহায়তার নামে তার কানের দুল নিয়ে চম্পট দেয়।কিছু দিন আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাহনাজ নামের এক নারী হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। তিনি জানান, তার সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে বহির্বিভাগে ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী তার ব্যাগ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।সূত্র জানায়, যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা রোগীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে ধান্দাবাজিতে লিপ্ত হয়। সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে তাদের গহনা, মোবাইল ফোন এবং পার্সে থাকা নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটির প্রধান কৌশল।হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জানান, গত কয়েক মাসে একাধিক রোগী এই চক্রের কবলে পড়ে মোবাইল, নগদ টাকা ও গহনা খুইয়েছেন। ইতিমধ্যে চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এরপরও চক্রের সদস্যরা থেমে নেই। তারা রোগী সেজে হাসপাতালে এসে টাকা ও গহনা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালকে ঘিরে নারী টানাবাজ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা সরল রোগীদের টার্গেট করে গহনা ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে রোগীদের সচেতন হতে হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
