চেক জমা দিয়ে বাড়ির মালামাল ক্রয়, নাতি জামাইয়ের প্রতারণায় নিঃস্ব দাদিকিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের উত্তর রৌহা গ্রামের বৃদ্ধা অযুফা বেগম নিঃস্ব জীবন যাপন করছেন। নাতি জামাই ও তার পরিবারের প্রতারণার শিকার হয়ে দিনভর ঘরের কোণে বসে ফুঁপিয়ে কাঁদেন। কেউ কাছে গেলে জড়িয়ে ধরে চিৎকারে কেঁদে ওঠেন, আর তার আর্তনাদে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।জানা যায়, অযুফা বেগমের বড় ছেলে জসিমের মেয়ে সাদিয়া তাড়াইল উপজেলার সাচাইল-তাড়াইল ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ির হান্নান ভূঁইয়ার ছেলে পারভেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিবারের অজান্তে মেয়ের পছন্দমতো এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।বিয়ের পর পারভেজের পরিবার জানায়, তাদের থাকার জন্য নতুন ঘর প্রয়োজন। মেয়ের বাবা জসিম দায়িত্ব নেন ঘর নির্মাণের। কিছুদিন পর ছেলেপক্ষের আচরণে অসন্তোষ দেখা দিলে জসিম মালামাল সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এরপর নাতি জামাই পারভেজ ও তার স্ত্রী সাদিয়া অযুফা বেগমের কাছে এসে বাড়ি তৈরির মালামাল শেষ করার আবদার করেন।অসহায় দাদি বাধ্য হয়ে রড-সিমেন্ট বিক্রেতার কাছে ব্যাংকের চেক জমা দিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল পাঠান, যদিও জমা ছিল মাত্র ৪ লাখ টাকা। বাকি টাকার জন্য দোকানদার বারবার তাগিদ দেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নাতি জামাই পারভেজের শশুরবাড়ি গেলে অযুফা বেগমকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে চেক না দেওয়ায় দোকানদার মামলার প্রস্তুতি নেন। এ অবস্থায় জীবনের শেষ সময়ে দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন বৃদ্ধা নারী।এ বিষয়ে সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা নাতি জামাই পারভেজের নবনির্মিত বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো জসিমের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন। এ সময় পারভেজের ছোট ভাই পাভেল সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।মেয়ের বাবা জসিম বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ের পর ছেলের নানির বাড়িতে নিয়ে তোলে। তখন ছেলের মা আমার কাছে বলে, আমরা ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে নতুন বউকে কীভাবে তুলি। তারা আমাকে বলে একটি ঘর তৈরি করে দিতে। সেই সঙ্গে আমার মায়ের কথায় আমি রাজি হই। ওনারা আমার কাছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা দেয় মালামালের জন্য। কিন্তু মালামাল পাঠানোর পর তাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করি। তাদের তালবাহানা শুরু হলে আমি মাল পাঠানো বন্ধ করে দেই। আমি মালামাল বন্ধ করে দেওয়ার পর তারা আমার মাকে বুঝিয়ে তার চেক জমা রেখে দোকান থেকে মালামাল নেয় সর্বমোট ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকার। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আমার মা তাদের বাড়িতে টাকার জন্য গেলে আমার মা’কে অপমান করে বের করে দেয়। এখন আমাদের মরা ছাড়া কোনো রাস্তা নাই।’মেয়ের দাদি অযুফা বেগম কান্না জর্জরিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমারে রাজি করাইয়া নাতিন জামাই এবং তার মা সকল মালামাল নিয়ে ঘর করছে। কিন্তু এখন তারা টাকা দিচ্ছে না। টাকা চাইতে গেলে অপমান করে। টাকা দিতে না পারলে দোকানদারও মামলা করবে। এখন আমি কোনো উপায় পাচ্ছি না।’জসিমের মামা বলেন, ‘বিল্ডিং করার প্রথমে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল নেওয়ার পর যখন টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন তারাও মালামাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর তার বোনকে বুঝিয়ে চেক জমা দিয়ে মালামাল নিয়েছে। এখন টাকা চাইতে গেলে আমাদের উল্টো অপদস্থ করে। তারা এখন সব অস্বীকার করে।’রড সিমেন্টের দোকানদার বলেন, ‘জসিমের মা এসে চেক জমা রেখে মালামাল নিয়েছে। সব মালামাল তার মেয়ের শশুরবাড়িতে গেছে। সবকিছুর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’অভিযোগের বিষয়ে নাতি জামাই পারভেজের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব মুর্শেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
