চারিপাশে পানি থইথই। কোথাও গোড়ালিসমান পানি, আবার কোথাও হাঁটু পর্যন্ত। প্রথম দেখায় পুকুর বলে বিভ্রম হয়। এমন পরিস্থিতি থাকে বছরের পাঁচ মাস। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখন যেন রোগীর পরিবর্তে মশা–ব্যাঙের ঠিকানা। বৃষ্টির পানি মাসের পর মাস নিষ্কাশন না হওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিণত হয়েছে ডেঙ্গু মশার অভয়ারণ্যে। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া এলাকায় গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে ‘বাজড়া কমিউনিটি ক্লিনিক’ স্থাপন করা হয়। ক্লিনিক থেকে গড়ে ছয় হাজার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, পুষ্টি ও পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। পরিকল্পনার অভাবে আশেপাশের জমির উচ্চতা থেকে কিছুটা নিচু জায়গায় এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থাপন করা হয়। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই চারদিকে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়। অনেক সময় ভারী বর্ষণ হলেই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরেও পানি প্রবেশ করে।সরেজমিনে গোপালপুর-চাপুলিয়া সড়কের পাশে অবস্থিত বাজড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ভবনের চারিপাশে জমে থাকা পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। ক্লিনিকের ভিতরে বিভিন্ন পোকামাকড় বাসা বাঁধছে। আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানি নামছে না। রোগীরা কাঁদা-পানি মাড়িয়ে ক্লিনিকে সেবা নিতে আসছ। ক্লিনিকে নারী, শিশুসহ ৮-১০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।ক্লিনিকে আসা রোগী রাফেজা বেগম (৩৫) জানান, ‘কয়েক দিন ধরে সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগলেও ক্লিনিকে ঢোকার পথটি পানিতে ডুবে থাকার কারণে তিনি চিকিৎসা নিতে আসতে পারেননি। শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে তাকে ক্লিনিকে আসতে হয়েছে।’মনিরুল ইসলাম আমীর নামে (৫২) অপর এক রোগী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের চারপাশে পানি-কাদা। বাচ্চা-বুড়ো নিয়ে ভেতরে যাওয়াই কষ্ট। বছরের প্রায় পাঁচমাস এভাবে জলাবদ্ধতা থাকে।’গোপালপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ খাদিজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, অসুখ হলে এই ক্লিনিক ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। কিন্তু এই ক্লিনিকের চারপাশে সব সময় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে আসতে গেলে ভিজে একাকার হতে হয়।’ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রসূতি, নবজাতকসহ গড়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন সাধারণ রোগী ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। বৃষ্টির পানিতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে জলাবদ্ধ থাকার কারণে লোকজনকে ক্লিনিকে আসতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্লিনিকের ভিতরে দিনদিন মশার উপদ্রব বাড়ছে। বিভিন্ন পোকামাকড় বাসা বাঁধছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ক্লিনিকের ভিতর থেকে দুইটি বিষধর সাপ মারা হয়েছে।’ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা কমিটির (কমিউনিটি গ্রুপ) সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরিফুল ইসলাম ছোটন জানান, ‘ক্লিনিকটি নিচু জায়গায় হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি জমে থাকে, তাই স্বাস্থ্য সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ক্লিনিকের ভবনটি নির্মাণ করার সময় সংযোগ সড়কটিও ঠিকমতো নির্মাণ করা হয়নি।’এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাটি নিরসনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।’এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
