মাগুরা সদরের গোপালগ্রাম ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার থেকে বঞ্চিত আট গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক।জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার বিভূতি ভূষণ বিশ্বাস (৬৫) নামে বিএডিসি সারের ডিলারকে গোপালগ্রামের বাহারবাগ বাজারে সার বিক্রির জন্য কৃষি অফিস থেকে জানানো হলেও তিনি পার্শ্ববর্তী কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া বাজারে এই সারের ব্যবসা করে আসছেন, যা গোপালগ্রাম থেকে ৮-১০ কিমি দূরে। এতে চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষিরা। এলাকার বাইরে থেকে সার ক্রয় করতে গিয়ে যাতায়াত খরচ বাবদ গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ফলে কৃষি ফসল উৎপাদনে চাষিদের খরচ বেশি হচ্ছে।এছাড়াও সময়মতো পাচ্ছেন না ইউরিয়া সারসহ অন্যান্য সার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গোপালগ্রাম ইউনিয়নের কৃষকেরা।গোপালগ্রাম ইউনিয়নের চাষি মন্নু মোল্যা জানান, ইউনিয়নে মাত্র একটি বিসিআইসি সারের ডিলার রয়েছে, যা দিয়ে ইউনিয়ন কাভার করা সম্ভব নয়। এই ইউনিয়নে বিএডিসির কোনো সারের ডিলার নেই। তবে শুনেছি কুল্লিয়া বাজারের একজন রয়েছেন, যিনি বাহারবাগ বাজারে ব্যবসা করার কথা। কিন্তু তিনি এযাবৎকালে আসেননি। তাই দ্রুত এলাকায় বিএডিসির সারের ডিলার থাকার জন্য দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে বিএডিসি সারের ডিলার বিভূতি ভূষণ বিশ্বাস জানান, তিনি জানতেন না যে তাকে গোপালগ্রাম ইউনিয়নে ডিলারশীপ নিয়ে ব্যবসা করতে হবে। তবে কৃষি অফিস থেকে তাকে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে বাহারবাগ বাজারে সার বিক্রির কথা, এটা তিনি স্বীকার করেন। তাহলে কেন তিনি বাহারবাগ বাজারে ব্যবসার জন্য যাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ওই বাজারে ভালো কোনো ঘর পাচ্ছেন না, তাই সেখানে যাননি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুল্লিয়া বাজারেই দুটি বিএডিসির সারের ডিলার রয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী গোপালগ্রামে নেই কোনো বিএডিসির ডিলার। একাধিক কৃষক এ বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। সবার একই দাবি, দ্রুত যেন বাহারবাগ বাজারে বিএডিসির ডিলার দেওয়া হয়।এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তোজাম্মেল হক জানান, সদরের কুল্লিয়া বাজারের মেসার্স পিযুষ বীজ ভান্ডার ও বিএডিসি সারের ডিলার, যার স্বত্বাধিকারী বিভূতি ভূষণ বিশ্বাসকে গোপালগ্রামের বাহারবাগ বাজারে বিএডিসির সার বিক্রির জন্য নোটিশ করা হয়েছে। এদিকে এখন পর্যন্ত বাহারবাগ বাজারে সার বিক্রির কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে হতাশ এলাকার চাষিরা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
