পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ১৩ অক্টোবর সোমবার রাতে ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মো. আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন কর্মীকে রথজবাজার এলাকায় চায়ের দোকানে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে একদল লোক হামলা করে মারধর করে জিম্মি করে বলে অভিযোগ করেন আবু বক্কর।এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসেন ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়ার নেতৃত্বে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিজয় চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান।এই সময় জামায়াত নেতা আবুল বাশার বসুনিয়া বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ কাউকে জিম্মি করার অধিকার রাখে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না। স্বাধীন দেশের নাগরিক কথা বলার অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনীতি করার অধিকার রাখে।’এই ঘটনায় মঙ্গলবার তিনি দেবীগঞ্জ থানায় বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবিকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০–৬০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।অন্যদিকে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন তবারক হ্যাপির নেতৃত্বে কয়েক হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। হ্যাপি অভিযোগ করেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত রাত দুইটার দিকে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছে জামায়াত কর্মীরা।’বিক্ষোভকারীরা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়ার গ্রেফতারের দাবি জানান।এদিকে, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘আমরা কাউকে জিম্মি করিনি, জামায়াত আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। প্রমাণ দিতে না পারলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, ‘দুই পক্ষের অভিযোগই আমরা পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না।’ঘটনার পর থেকে এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি থমথমে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
