আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত রয়েছেন। জেলার রাজনীতিতে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। যে কারণে জেলা সদরকে ঘিরে সকল দলেরই রয়েছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও বাড়তি পর্যবেক্ষণ।এরই মধ্যে এই নোয়াখালী-৪ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে আসনটির জন্য বিএনপিতে রয়েছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া অন্যান্য দলগুলোও ভোটের মাঠে সরব রয়েছে।জানা গেছে, বিএনপি’র হাই কমান্ডের নির্দেশে নির্বাচনে ঐক্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে সকল প্রার্থীকে নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দফায় বৈঠক করা হয়েছে।এ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চারবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। এছাড়া রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা, মিডিয়া সেল ও দলের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দেশমাতা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম।বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে তৎপর রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ এবং নোয়াখালী জেলা বারের বারবার নির্বাচিত সভাপতি, জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এডভোকেট এ বি এম জাকারিয়া।এই ছয় হেভিওয়েট প্রার্থীরা নোয়াখালী-০৪ সদর-সুবর্ণচর একই আসনে বিএনপি’র টিকিট প্রত্যাশী। সেই লক্ষ্যে তারা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে দিনরাত কাজ করে চলেছেন।এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের পিআর পদ্ধতি চাইলেও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও ভোটের রাজনীতিতে অনেক বেশি সরব দলটি। এরই মধ্যে দলটি জামায়াতের জেলা শাখার আমির শিক্ষাবিদ ইসহাক খন্দকারকে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।দলের গ্রীন সিগনাল পাওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র সভা-সমাবেশ, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। দলের শৃঙ্খলিত নেতাকর্মীরা জেলা আমিরের নির্দেশনা মোতাবেক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ভোটের মাঠে কাজ করে চলেছেন।এছাড়াও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা রুহুল আমিন চৌধুরী এবং ইসলামী আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ শাখার সহসভাপতি ফিরোজ আলম, গণধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।এদিকে এখন পর্যন্ত এ আসনে প্রার্থীতার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নোয়াখালীর প্রত্যেকটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমরান হোসাইন তুহিন। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে এনসিপিকে ঘিরে ভোটারদের চমৎকার আগ্রহ আমরা দেখতে পাচ্ছি। সে জায়গা থেকে আমরা বলতে পারি সুষ্ঠু নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে পারলে এনসিপি প্রত্যেক আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবে।’নির্বাচনের বিষয়ে কথা হয় প্রবীণ রাজনীতিবিদ কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সাহেবের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯১ সাল থেকে একাধারে চারবার এখানে সংসদ সদস্য ছিলাম। মাঝে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়ায় নির্বাচনের বাইরে ছিলাম। এবারের নির্বাচনে আমার কর্মকাণ্ড আচার-আচরণ মানুষের সাথে সুসম্পর্কের বিবেচনা করেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে।’দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগের নির্বাচনগুলোতেও আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, এবারেও আছেন। আগে হয়তো আলোচনা ছিল না, এবার হয়তো আলোচনা হচ্ছে। তবে আমি মনে করি নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার। যাকে দিয়ে নির্বাচনের জয়লাভ করা সহজ হবে, দল তাকে মনোনয়ন দেবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত, আমার কাছে এমপি হওয়াটা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হলো এলাকার মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখা, তাদের জন্য কিছু কাজ করা, সুখে-দুখে তাদের পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়ন করাটাই আমার কাছে মুখ্য বিষয়। হয়তো এসব কাজ করতে গেলে এমপি হলে কাজ কর্ম করতে সুবিধা হয়।’মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি’র বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম বলেন, ‘উপযুক্ত সবার জন্যই মনোনয়ন স্বাভাবিক প্রত্যাশার একটি অংশ, তেমনি ভাবে আমারও। ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা যারা গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই দল প্রার্থী বাছাই করবে। সেক্ষেত্রে তরুণ, শিক্ষিত, মেধাবী, সৎ ও জনপ্রিয় কর্মীর বিকল্প নেই। সুতরাং আল্লাহর ইচ্ছেতে আমার আশার জায়গাটা জোরালো।’মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলে উল্লেখযোগ্য কি কি কাজ করবেন এমন প্রশ্নে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আকাশকুসুম গল্প ফাঁদব না। মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলে জনগণের জীবনমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। অগ্রাধিকারভিত্তিতে মাদক ও দুর্নীতি নির্মূলে কাজ করব। পরিবেশ রক্ষায় সবুজায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে হাত দিব। জাতীয় অর্থনীতির টেকসই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নোয়াখালীতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন ও প্রসারে মনোযোগী হব।’কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘আমাদের দলে সব সময় তারুণ্য নির্ভর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রাধান্য পেয়েছে। আমার জন্মভূমি নোয়াখালী সদর-সুবর্ণচরের বিষয়ে কাজ করার প্রত্যাশা করি। সুযোগ পেলে আপামর জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখব। তবে মনোনয়নের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা হিসেবে যেরকম একটি প্রসিদ্ধ নাম, সে হিসেবে সদর-সুবর্ণচর মোটামুটি ভাবে একটি অবহেলিত জনপদ। সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিগতদিনে লিডারশিপগুলো চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের মাঝে পারস্পরিক সামাজিক সুসম্পর্ক এবং রেসপেক্টের জায়গাটা সংকুচিত হয়ে গেছে, অনেক বেশি বিভাজন তৈরি হয়েছে। সমাজের প্রত্যেক মানুষের সাথে মতভেদ দূর করে সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি করাটা জনপ্রতিনিধির কাজ। তাহলে আর মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটি নিয়ে সমস্যা হবে না।’ছাত্রনেতা নাছির প্রতিবেদককে আরও বলেন, ‘এখানে রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবকাঠামগত উন্নয়ন এগুলো হয়নি, এটা চলমান প্রক্রিয়া, এগুলো করতে হবে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, এখানকার নিম্নমানগামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার মানোন্নয়নের কাজগুলো গুরুত্বের সাথে করতে চাই। এছাড়া মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ থাকে সদর-সুবর্ণচরে। আমাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ শক্তিতে উন্নত হতে হবে। এই জন্য সদর-সুবর্ণচর কেন্দ্রিক একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘যার শিকড় অনেক গভীরে, তিনি ছিলেন ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাকআপ প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত। এবারের মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল ও বিএনপি’র তৃণমূলের রাজনৈতিক দীক্ষা নিয়ে আজ জেলা বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্বে অবতীর্ণ হয়েছি। এই পথ পাড়ি দেয়া অতটা সহজ ছিল না। মামলা হামলা, জেল জুলুম, অবিচারের কঠিন পথ অতিক্রম করে আমাদের এই দলীয় রাজনীতিতে টিকে থাকা, আমাদের ত্যাগের তুলনায় প্রাপ্তির হিসাব শূন্য। যে কারণে দলীয় মূল্যায়নে মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা শহরের টেকসই উন্নয়নে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কাজ করতে হবে, শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে, নোয়াখালীর খাদ্য ভান্ডার সুবর্ণচরের উর্বর মাটিতে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে রেললাইন সংযোগ স্থাপনসহ নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নে দুটি উপজেলায় টেকসই রাস্তাঘাট ও অবকাঠামগত উন্নয়ন করতে হবে। মনোনয়ন পেয়ে জনগণের মেন্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হলে নোয়াখালীতে বিমানবন্দর, নৌবন্দর, সুবর্ণচরের রেলস্টেশন, সুবর্ণচর পৌরসভা ও নোয়াখালী ক্যাডেট কলেজের মত স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমর্থ হব।’বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রতিদ্বন্দ্বী নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, ‘আমাদের শ্রম ঘাম আর অর্থনৈতিক ত্যাগ তিতিক্ষার উপর এখানকার জাতীয়তাবাদী শক্তির ভিত্তি মজবুত হয়েছে। এখানকার মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়েছে, মানুষের ভালবাসার কারণেই এতদূর আসতে পেরেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দলকে সুনিশ্চিত বিজয় উপহার দেব। এবং এখানকার মানুষ ও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো।’জেলা বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা এডভোকেট এ বি এম জাকারিয়া বলেন, ‘আমি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই দলের রাজনীতিতে শ্রম ঘাম মেধা প্রয়োগ করে দলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি, যে কারণে মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’তিনি আরও বলেন, ‘সদর-সুবর্ণচর সবচেয়ে অবহেলিত জনপদ, এসব এলাকায় আগের জনপ্রতিনিধিরা এ অঞ্চলকে অনেক পেছনে ফেলে রেখেছেন। অতীতে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নিয়ে যে উন্নয়নের বাজেট ছিল তার ৩০ ভাগ কাজও হয়নি। আমরা টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে সাজিয়ে তুলতে চাই।’নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এই নেতা বলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের সাথে আমি একমত। বিভাগ বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা দূরীকরণে আমি আমার সাধ্যের সবটুকু সমন্বয় করে কাজ করে যাব।’বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির শিক্ষাবিদ ইসহাক খন্দকার বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়েও আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন শক্ত প্রতিদ্বন্দিতার অবস্থানে রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আশা করি আমরাই বিজয়ী হবো। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। সেই সাথে ভোট ডাকাত ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্ত প্রস্তুতিও রয়েছে আমাদের।’উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর দুঃখ জলাবদ্ধতা, দায়িত্ব পেলে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমাদের সুবর্ণচরের দুঃখ বিশুদ্ধ পানির সংকট। শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের পানির লেয়ার এতটাই নিচে চলে যায় যে এখানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এছাড়াও চলমান উন্নয়ন রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করব।’নোয়াখালী-০৪ জাতীয় সংসদের ২৭১ নম্বর আসন। আসনটি জেলা সদর ও সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ে গঠিত। একটি পৌরসভা ও দুটি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের বিস্তৃত জনপদের সীমানা নিয়ে এ আসনের চৌহদ্দি। জেলা নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী দুটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার ভোটার সংখ্যা ৫,০১,৬৮৩ এবং সুবর্ণচর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২,৪৮,৬৬৬ জন। অর্থাৎ এ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৫০ ও নারী ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৯৬, হিজলা ভোটার ৩ জন।ইতিহাস বলছে, জেলা সদরের আসনটি নোয়াখালীর রাজনীতিতে খুবই গুরুত্ব বহন করে। বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি থেকে টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন মো. শাহজাহান। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। তখন থেকে হাসিনা সরকার পতনের আগ পর্যন্ত আসনটি একতরফা নির্বাচনে এবং রাতের ভোটে আওয়ামী লীগের দখলে থাকে।তবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দল নতুন জোট মহাজোট নিয়ে হিসেব মেলাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ভোটারের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী তরুণ প্রজন্মের ভোট। সাধারণ মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার এবং তরুণ প্রজন্মের নতুন করে পথচলা, কাঙ্খিত ভোটের হিসাব পরিবর্তন করে দিতে পারে নিমিষেই। আরডি

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
মিরসরাইয়ে থেমে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, সবজি ব্যবসায়ী নিহত
মিরসরাইয়ে থেমে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, সবজি ব্যবসায়ী নিহত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সবজিবাহী আরেকটি ট্রাকের ধাক্কায় শামসুল আলম (৪৫) নামে এক সবজি ব্যবসায়ী Read more

শোলাকিয়া ঈদগা মাঠে জঙ্গি হামলার ৯ বছর, বিচারে ধীরগতি
শোলাকিয়া ঈদগা মাঠে জঙ্গি হামলার ৯ বছর, বিচারে ধীরগতি

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে জঙ্গি হামলার নয় বছর হয়েছে। সেদিনের ঘটনায় করা মামলায় বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কথা বলছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।২০১৬ Read more

টিকটকার রাকিব হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য
টিকটকার রাকিব হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারীঘটিত কারণে টিকটকার রাকিবকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো Read more

স্ক্যাবিস ভাইরাস প্রতিরোধে ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন
স্ক্যাবিস ভাইরাস প্রতিরোধে ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন

স্ক্যাবিস ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের পি-১০২ ব্যাচের Read more

আমার ওপর হামলার বিচার হলে ওসমান হাদি খুন হতেন না: নুর
আমার ওপর হামলার বিচার হলে ওসমান হাদি খুন হতেন না: নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তার ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার না করার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে Read more

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ

আজ ৮ অক্টোবর, ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’। ‘আমি কন্যাশিশু-স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশব্যাপী ‘জাতীয় Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন