প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়। মানসিক স্বাস্থ্য শুধু স্বাস্থ্যের একটি অংশ নয়, এটি আসলে মানুষের সম্মান এবং কর্মক্ষমতার ভিত্তি। মনের অবস্থা বোঝা, অনুভূতিগুলো অনুভব করা এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকার অর্থ হলো জীবনের সব দিক সুরক্ষিত রাখা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটের মুহূর্তে মানসিক সহায়তা জীবন রক্ষা এবং পুনর্বাসনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় একশ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা (২০২২) এর ফলাফল অনুসারে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৮.৭ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১২.৬ শতাংশ মানসিক অথবা বিকাশজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বে প্রায় ২৪ কোটি শিশু ও কিশোর মানসিক বা বিকাশগত সমস্যায় ভুগছে, যাদের অধিকাংশেরই যোগাযোগে সমস্যা রয়েছে।মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষদের অনেকেই কথা বলতে পারেন না ঠিকমতো, নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না, কিংবা অন্যদের সঙ্গে মিশতে সমস্যা হয়। এখানেই বাক ও ভাষা থেরাপিস্টদের ভূমিকা অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা শুধু কথা বলার সমস্যা সমাধান করেন না, বরং মানুষকে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে, সম্পর্ক তৈরি করতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সমাজে মিশতে সাহায্য করেন – যা মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতিতে অপরিহার্য।আমেরিকান স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ-হিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (এএসএইচএ) মতে, বাক ও ভাষা থেরাপিস্টরা ভাষাগত জটিলতা দূর করতে রোগী এবং তাদের পরিবারকে আবেগীয় সহায়তা, পরামর্শ এবং সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় যোগাযোগ দক্ষতার উন্নতি রোগীর সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বহুবিষয়ক দলে বাক ও ভাষা থেরাপিস্টদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত হলেও, হাসপাতাল এবং কমিউনিটি পর্যায়ে তাদের সংযুক্তি বাড়ালে বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, অটিজম, ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় কথা বলা, শোনা এবং একে অপরকে বোঝাই মানুষের মন সুস্থ করার প্রথম পদক্ষেপ। তাই বাংলাদেশে বাক ও ভাষা থেরাপিস্টদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করার এখনই সঠিক সময়।লেখক: শাহরিয়ার হোসেন রিশাদ চতুর্থ বর্ষ, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি বিভাগবাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকাএসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
