দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত গ্রামের নাম চাকুল, সেই গ্রামের আইদুল ইসলামের মেয়ে রিনা পারভীন। এখানেই জন্ম রিনা পারভীনের। একেবারেই প্রান্তিক পরিবারের সন্তান রিনা ছোটবেলা থেকেই বেঁচে থাকার লড়াইটা শিখেছেন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই। দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। অভাব-অনটনের ঘেরাটোপে থেকেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন—একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেন, পড়াশোনা করে স্বাবলম্বী হবেন।কিন্তু জীবনের প্রথম বড় ধাক্কাটি আসে ২০১০ সালে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার আগেই পারিবারিক চাপে তাকে বিয়ে করতে হয়। কিছুদিন সংসার ভালোই চলছিল। জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান। কিন্তু সেই সুখ ছিল ক্ষণস্থায়ী। এক সময় রিনার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সংসার ছেড়ে পালিয়ে যায়।ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে রিনা একাই ঢাকায় আসেন। ঠাঁই নেন একটি পোশাক কারখানায়। সেখান থেকেই জীবনের নতুন সংগ্রাম শুরু। কোনোভাবে দিন চলে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই নামল আরেকটি দুর্বিষহ দুর্যোগ।২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন রিনা পারভীন। আগুনে পুড়ে যায় তার গলা ও বুকের একটি বড় অংশ।’শরীরটাই এখন পুড়ে গেছে, কথা বলতে পারি না ভালোভাবে। কাজ তো দূরের কথা,’—বলেন রিনা খান, কষ্টে উচ্চারণ করতে করতে।দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রায় অচল হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তার পরিবার যা কিছু ছিল, সবই খরচ করেছে চিকিৎসার পেছনে। কিন্তু এখন টাকার অভাবে থেমে গেছে চিকিৎসা।রিনার ছোট বোন বলেন, ‘আমাদের যা কিছু ছিল তা বোনের চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু এখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছে, উন্নত চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি অনেক বেশি।’ চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন—দ্রুত সার্জারি ও পুনর্বাসন চিকিৎসা না হলে রিনার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। তার চিকিৎসার জন্য অনুমানিক ২ লাখ টাকার মতো খরচ হবে।জোতবানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সাজেদুর রহমান (মিলন) বলেন, ‘রিনা পারভীনের পরিবার অত্যন্ত অসহায়। মেয়েটির দুর্ঘটনার পর আমরা ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয়ভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করেছি। কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য জরুরি একটি অপারেশন প্রয়োজন, যা সময়মতো না হলে বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। অপারেশনের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার প্রয়োজন, যা তার পরিবার কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারছে না। আমরা সমাজের হৃদয়বান মানুষদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—দয়া করে রিনার পাশে দাঁড়ান।’স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও মাজেদ বলেন, ‘রিনাদের পরিবার খুবই অসহায়। আমরা গ্রামের মানুষজন চেষ্টা করছি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করতে। কিন্তু দুই লাখ টাকা তো কোনোভাবেই আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সবাই যদি একটু করে সহযোগিতা করেন, তাহলে মেয়েটি নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে। রিনার অপারেশনটা খুব জরুরি—এটা হলে অন্তত বাঁচতে পারবে সে।’এখন তিনি শুধু অপেক্ষা করছেন—হৃদয়বান মানুষের একটি সাহায্যের হাতের জন্য। সরকার, বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে রিনা পারভীন মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। আপনার ছোট একটি সহায়তাই রিনার নতুন জীবনের জন্য হতে পারে একটি আশার আলো।যোগাযোগ/সহায়তার তথ্য: রীনা পারভীন (বিকাশ) 01310576761 ।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
