উপদেষ্টাদের মধ্যে কারা দুর্নীতি করছে, অর্থপাচার করছে, কাদের ‘সেফ এক্সিট’ প্রয়োজন অনুভব করছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে তাদের তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে এ আহ্বান জানা তিনি। রিজভী বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম যদি নামের তালিকা না দেন, তাহলে এসব কথা বলে সরকারকে কেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছেন—সে প্রশ্ন ওঠে। যারাই দুর্নীতি ও অর্থপাচারে জড়িত, তাদেরই সেফ এক্সিটের প্রয়োজন পড়বে।’তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কখনোই সেফ এক্সিটের প্রয়োজন হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার সত্ত্বেও তারেক রহমান কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ধরে অভিযোগ করেননি। এটিও এক ধরনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা।‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উত্তরাঞ্চলে নিপীড়নের অভিযোগ এনে রিজভী বলেন, উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের জন্য সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর দায়ী।তিনি আরও বলেন, ‘এই নীলফামারীতে আমাদের চার-পাঁচজন ছেলেকে সেই সময় একজন মন্ত্রীর নির্দেশে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তারা গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল বলেই তাদের লাশ পাওয়া গেছে রাস্তার ধারে, খালের ধারে ও পুকুরের ধারে।’আসাদুজ্জামান নূরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হয়েও এ ধরনের অমানবিক কাজ করেছেন। আমাদের দলেও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেবী নাজনীন আছেন—তাকে কি কখনো এমন করতে দেখেছেন? আমাদের বর্ষীয়ান নেতারা নির্যাতিত হয়েও দল ছাড়েননি। তখনই বলেছিলাম—আপনি যে এত অত্যাচার করছেন, আপনি কি আপনার সেফ এক্সিটের কথা ভেবে রেখেছেন?’তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যিনি সেফ এক্সিটের কথা বলছেন, তিনিও সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তাই তার বলা উচিত—কার সেফ এক্সিটের কথা তিনি বলছেন। যদি কেউ দুর্নীতি, অর্থপাচার, হত্যাকাণ্ড বা অন্য অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে তারই সেফ এক্সিটের প্রয়োজন হবে।’বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা সব গণতান্ত্রিক দল সমর্থন করেছি। তিনি একজন গুণী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। আমরা আশা করি, এই সরকার নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করবে।’উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সরকারের একজন উপদেষ্টা হয়ে এমন মন্তব্য করেন, তাহলে তালিকাও দেওয়া উচিত। কারণ, যার অন্তরে সততার আলো থাকে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেও তার সেফ এক্সিটের প্রয়োজন হয় না।’এসময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত সৈয়দপুর (সাংগঠনিক) জেলার শহিদ সাজ্জাদ হোসেন ও শহিদ নাঈম বাবুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক অনুদান প্রদান করে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
