সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (স্থানীয়দের ভাষায় পাগলী) রাস্তায় এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। রাতের আঁধারে রাস্তায় প্রসব করা এই শিশুটি এখন উল্লাপাড়া কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মানবিক এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আলোচনা। নবজাতককে দত্তক নিতে ইতোমধ্যে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৫ জন ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।জানা যায়, সোমবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার শ্যামলীপাড়ায় কেয়ার হাসপাতালের পাশের একটি সরু গলিতে ওই নারী একা একাই সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালের পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. লুৎফর রহমান জানান, রাত দেড়টার দিকে দুই পথচারী আমাকে খবর দেন এক পাগলী রাস্তার পাশে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেবিকাদের পাঠাই। তারা গিয়ে শিশুটির নাড়ি কেটে নিরাপদে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু মা পালিয়ে যায় অন্ধকারে।রাত দুইটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উল্লাপাড়া থানা, সমাজসেবা অফিস ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরকে জানায়। খবর পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন ও উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তারা আপাতত শিশুটিকে কেয়ার হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। ইতোমধ্যে ১৫ জন ব্যক্তি নবজাতকটিকে দত্তক নিতে আবেদন করেছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ও যোগ্য দত্তকগ্রহীতার কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করব।এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সমাজে অসহায় এই নারীর নাম-পরিচয় কেউ জানে না, কিন্তু সে এক অসীম মমতার প্রতীক হয়ে জন্ম দিয়েছে এক নবজীবনকে। তাই অনেকে কষ্টভরা কণ্ঠে বলছেন, ‘পাগলী মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, দত্তক নেওয়ার আবেদনকারীদের তালিকা সমাজসেবা অফিসে রয়েছে। যোগ্য কেউ থাকলে তার কাছে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে দেওয়া হবে। অন্যথায় উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে শিশুটিকে রাজশাহী সরকারি বেবি হোমে পাঠানো হবে।বর্তমানে কেয়ার হাসপাতালের নার্সরা স্নেহ আর যত্নে নবজাতকটির দেখাশোনা করছেন। হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে ফরহা নামে ডাকছেন, যার অর্থ আনন্দ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
