রেস্তোরাঁয় প্রবেশের শুরুতেই সাইনবোর্ডে বড় করে লেখা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজীর বিরিয়ানি হাউজ। একই দোকানের ভিতরে প্রবেশ করতে চোখে পড়লো অপর একটি সাইনবোর্ড। সেখানে লেখা রয়েছে পুরান ঢাকার নান্না কাচ্চি ঘর। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারের থানা রোডের সিটি ব্যাংকের বিপরীত পাশে চোখে পড়লো বিরিয়ানি হাউজের রেস্তোরাঁয় এমন আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড। কৌশলে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী এবং নান্না বিরিয়ানির নাম ব্যবহার হলেও আদতে দু’টি নামের একটিও পুরান ঢাকার নামকরা আসল ‘হাজি কিংবা নান্না বিরিয়ানি’ নয়। মূলত নামকরা হাজী এবং নান্না বিরিয়ানির নাম ভাঙিয়ে ফায়দা নিতেই এ কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে তারা।অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী এবং নান্না বিরিয়ানির নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা এই বিরিয়ানি হাউজের খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয় নিম্নমানের উপাদান। ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস রান্না, পোড়া তেলের ব্যবহার, পরিমাণে কম দেওয়া এবং ক্ষতিকর ক্যামিকেল মিশ্রণের অভিযোগও রয়েছে অসাধু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্রেতারা আসল হাজী এবং নান্না বিরিয়ানির স্বাদ পেতে ’ঢুঁ’ মারেন নকল করা নামের এই মিনি রেস্তোরাঁয়। বিরিয়ানির স্বাদ নেয়া শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুরতো দূরে থাক খাবারের পয়সা উসুল হলো কিনা সেটা নিয়ে ভাবতে বসেন অনেকেই। ক্রেতারা না বুঝেই নাম নকল করা হাজি এবং নান্না বিরিয়ানির স্বাদ নিতে রেস্তোয়াঁয় ঢুকে নিন্মমানের খাবার খেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এতে করে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো সম্পর্কে তাদের মনে বিরূপ ধারণাও তৈরি হচ্ছে।কাকডাকা ভোরে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই বিরিয়ানি বিক্রি। কম খরচে বেশি লাভের উদ্দেশ্য হওয়ায় স্বাদকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখায় ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। সুস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে খাবার অতি সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক নানা কেমিক্যাল ও সুগন্ধি বাড়ানোর উপাদান। দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহার করা হয়। খাবার তৈরির সময়েও অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।হাজী এবং নান্না বিরিয়ানী খেয়ে উপজেলার বারাংকুলা গ্রামের জাহিদুল হক মোল্যা নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘ব্যবসা বাড়ানোর জন্য দোকানের মালিক হাজী বিরিয়ানির নাম দিয়েছে। এটা আসল হাজী বিরিয়ানি নয়। পুরান ঢাকার আসল হাজী বিরিয়ানি কেমন, তা দূর থেকে গন্ধ শুকেই বলে দেয়া যায় এটা ঐতিহ্যবাহী হাজীর নান্না বিরিয়ানি।’উপজেলার বিলপুটিয়া গ্রামের ইমরান মোল্যা নামে অপর এক ব্যক্তি বলেন, ‘হাজী বিরিয়ানি বলে আলফাডাঙ্গায় যেটা বিক্রি হচ্ছে তার না আছে সেই ঘ্রাণ, না আছে সেই স্বাদ। এখানে শুধু শুধু পয়সা নষ্ট করে সুগন্ধযুক্ত কেমিক্যাল খেয়ে স্বাস্থ্যে রোগবালাই সৃষ্ঠি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানির সাথে তাদের কী সম্পর্ক অথবা শাখা কিনা এ ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার আব্দুর রহমান। তবে কেন হাজী এবং নান্না বিরিয়ানির নাম ব্যবহার করা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মালিক পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানির দোকানে একসময় কাজ করতেন। এজন্য আমরা দোকানের নাম হাজী বিরিয়ানি হাউজ দিয়েছি।’পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে থাকা দোকানের মালিক মো. ইয়াছিন শেখের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি জানান, আমি এখন ওই দোকানে যাই না। আমি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলাতে থাকি। পুরান ঢাকার হাজী কিংবা নান্না বিরিয়ানির প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে এড়িয়ে যান তিনি।এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো। ভোক্তা প্রতারিত হচ্ছে এমন কোন সংশ্লিষ্ট বিষয় পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
