গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৭৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী পাড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।রবিবার (৫ অক্টোবর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা পারে মাইকিং করে সতর্কবার্তা জানাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকার শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে বিপাকে পড়েছে গবাদি পশু নিয়ে।জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদী পাড়ের ক্ষেতে পানি ঢুকছে। আমনের ফসলের অনেকাংশ পুষ্ট হচ্ছে। এই সময় ফসল ডুবলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।’ আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা রতন কুমার জানান, ‘পানি বাড়তে থাকলে আমাদের বাড়িঘরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’ একই রকম আতঙ্কে থাকার কথা জানিয়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ পাকার মাথার কৃষক আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতে পানি আরো বাড়লে আমনের ক্ষতি হবে। এছাড়া বন্যা আতঙ্ক তো রয়েছেই।’পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং পানি পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
