রংপুরের ৩টি উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছায় ৮, মিঠাপুকুরে ১ এবং কাউনিয়ায় ২ জনের অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।এ বিষয়ে রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা বলেন, ‘জেলার কাউনিয়া, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা এই ৩ উপজেলায় ১১ জনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছেন। এতে কেউ আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক আছে। এর চিকিৎসা করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া আছে।’অ্যানথ্রাক্স কী?বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্স একটি জুনোটিক বা প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়াতে পারে এমন রোগ, যা গ্রাম-পজিটিভ স্পোর-গঠনকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস দ্বারা সৃষ্ট। এ রোগ মূলত গবাদিপশু এবং তৃণভোজী বন্যপ্রাণীর মধ্যে ছড়ায়।এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর বা সংক্রমণক্ষম রূপ দীর্ঘ সময় ধরে মাটি, প্রাণীর দেহ, অংশবিশেষ বা প্রাণিজাত পণ্যে বেঁচে থাকতে পারে। বায়ুপ্রবাহ, বন্যা, মৃত প্রাণীর দেহভক্ষণকারী পশু কিংবা প্রাণিজাত দ্রব্য পরিবহনের মাধ্যমে এসব স্পোর ছড়িয়ে পড়তে পারে।মানবদেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু চারভাবে প্রবেশ করতে পারে: চামড়ার ক্ষত দিয়ে, খাদ্যের মাধ্যমে, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এবং সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে।সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী রোগের উপসর্গ ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সব ধরনের অ্যানথ্রাক্স গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, যা সেপসিস ও মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস পর্যন্ত গড়াতে পারে।অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মূলত ছড়ায় আক্রান্ত প্রাণীর মাধ্যমে। মাটিতেও থাকতে পারে এই জীবাণু। কেউ যদি অসুস্থ প্রাণীর মাংস খান কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে যদি অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ঢুকে যায় তাঁর শরীরে, তাহলে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অ্যানথ্রাক্স একজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অবশ্য অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের মতো মানুষের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না। ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত দিয়ে ঢুকে যেতে পারে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু।জানা থাকতে হবে এর উপসর্গ সম্পর্কে: কারও দেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু কীভাবে প্রবেশ করছে, তার ওপর এর উপসর্গ নির্ভর করে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।মাংস খাওয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত হলে: বমিভাব, বমি, রক্তবমি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, জ্বর, গলাব্যথা বা ঘাড় ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। কিছুদিন পর রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হতে পারে, যার তীব্রতা খুব বেশি হয়।শ্বাসের মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হলে: গলাব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি, পেশি ব্যথার মতো সাদামাটা উপসর্গ থাকে শুরুতে। তারপর হতে পারে বুকে অস্বস্তি এবং শ্বাসকষ্ট।বমিভাব থাকতে পারে। কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। ঢোঁক গিলতে গেলে ব্যথা হতে পারে। জ্বরের তীব্রতাও বাড়তে পারে। মস্তিষ্কের পর্দায় হতে পারে প্রদাহ। কমে যেতে পারে রক্তচাপ।ত্বকের মাধ্যমে ছড়ালে: ত্বকে পোকার কামড়ের মতো ফোলা ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়। চুলকানিও থাকে। তবে দ্রুতই তা ব্যথাহীন হয়ে পড়ে, ক্ষতস্থানের মাঝখানটা কালো হয়ে যায়। ক্ষতের আশপাশেও ফুলে যেতে পারে। জ্বরও থাকে।প্রতিরোধের উপায়: মাংসের এমন পদ খাবেন না, যা খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা হয়নি। ত্বকে কোনো কাটাছেঁড়া থাকলে কাঁচা মাংস নাড়াচাড়া করার সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। গবাদিপশু পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে পশুকে নিয়মমাফিক অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। যিনি অসুস্থ পশুর দেখাশোনা করেন, তাঁর সুরক্ষাসামগ্রী, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যত্নের ব্যবস্থা হোক ঠিকঠাক।অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস খাওয়া, কাটাকুটি করা বা নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকুন। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
