পটুয়াখালীর গলাচিপায় চরাঞ্চল ও গ্রামীণ হাটবাজারে অনুমোদনহীনভাবে একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ সেন্টারের নেই কোনো অনুমোদন, নবায়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা দক্ষ টেকনোলজিস্ট। ফলে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কাজল ও চর বিশ্বাস ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ক্লোজার বাজারে জাহাঙ্গীর মল্লিকের বাড়ির নিচতলায় ‘কাজল রেখা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ চালু রয়েছে। সাইনবোর্ডে দুজন চিকিৎসকের নাম থাকলেও এখানে নেই কোনো যন্ত্রপাতি বা টেকনোলজিস্ট, এমনকি অনুমোদনও নেই। শুধু এটিই নয়, উপজেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অনুমোদনহীন সেন্টার।সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজজমা বাজারে ‘ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (বর্ধিত)’, বকুলবাড়ীয়া চৌরাস্তা বাজারে ‘ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার’, রতনদিতালতলী ইউনিয়নের কাটাখালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার-সহ একাধিক সেন্টার অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের অনেকের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘মহিলা ডাক্তার দ্বারা সিজার ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়’, কিন্তু বাস্তবে কোনো নিয়মিত মহিলা ডাক্তার নেই।কাজল রেখা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাজল রেখা স্বীকার করেছেন, ডায়াগনস্টিক ব্যবসার নিয়মকানুন সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। যন্ত্রপাতি তার কাছে নেই, ডাক্তাররা যেদিন আসেন, সেদিন তারা যন্ত্রপাতি নিয়ে আসেন এবং রোগ নির্ণয় ও সেবা দেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মালিক জানান, পরিদর্শন টিম এলেও মালিকরা ‘ম্যানেজ’ করে সহজেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লাইসেন্স নবায়ন না থাকলেও তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না।গলাচিপা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলায় তালিকাভুক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে ১৮টি নবায়নের জন্য আবেদন করলেও বেশিরভাগই ২০২১-২০২২ সাল থেকে ২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত নবায়ন করেনি। তিনটির কোনো অনুমোদনই নেই। এছাড়া তালিকার বাইরেও আরও কিছু সেন্টার চলছে, যাদের তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে।স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অলিগলি ও রাস্তার মোড়ে বাহারি সাইনবোর্ডে নতুন নতুন সেন্টার গড়ে উঠছে। এসব সেন্টারের ডাক্তার ও দক্ষ জনবল না থাকায় ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে তাদের নজরদারি রয়েছে। কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে যা আমরা জানিও না।গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অনুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। যারা নবায়ন করেনি, তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে।পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শনও অব্যাহত রয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
