ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দকে (৭০) ধরে জোর করে চুল-দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। গ্রেপ্তার মো. মজলু মিয়া (৫০) উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত রজব তালুকদারের ছেলে এবং এজাহারভুক্ত ৭ নম্বর আসামি মজলু। জানা গেছে, ‘হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন ওই চুল কাটার কাজটি করেছিল। সংগঠনের সদস্যরা ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে এসে ওই কাজ করেন। সংগঠনটির প্রধান ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন আশরাফীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী হালিম উদ্দিনের ছেলে মো. শহিদ মিয়া আকন্দ। পরে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. টিপু সুলতান বলেন, গ্রেফতার মজলু মিয়াকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হজরত শাহজালালের (রহ.) ভক্ত হালিম উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে চুল কাটেননি, যার কারণে তার মাথায় জটা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি ঘটনার দিন কাশিগঞ্জ বাজারে তাকে ‘হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের লোকজন জোর করে ধরে নিয়ে ট্রিমার দিয়ে তার মাথার জট, দাড়ি ও চুল কেটে দেন। এ সময় তিনি শারীরিক নির্যাতন ও বলপ্রয়োগের শিকার হন। হঠাৎ ওই ব্যক্তিরা জোর করে চুল কেটে দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি লজ্জায় ঘর থেকেও তেমন বের হন না। এ ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে তারাকান্দা থানায় একটি মামলা করেন হালিম উদ্দিনের ছেলে মো. শহিদ মিয়া আকন্দ। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে এ ঘটনাকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
