রাজশাহীর হোসনিগঞ্জ এলাকার ঐতিহ্যবাহী বেতপট্টি একসময় ছিল শিল্প-সৃজন ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। নানা ধরনের নান্দনিক বেতের সামগ্রীর জন্য এই এলাকা পরিচিত ছিল দেশের আনাচে-কানাচে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে।একসময় হোসনিগঞ্জের বেতপট্টিতে ছিল ১৫ থেকে ২০টি দোকান। ঘর সাজানোর সৌখিন সামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাব সবই মিলত এখানে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দক্ষ কারিগররা পাড়ি জমাতেন রাজশাহীতে। রাজশাহীর মানুষ তাদের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে নিজেরাও যুক্ত হন এই শিল্পে। নববধূদের বিয়ের উপহার হিসেবেও বেতের সামগ্রী ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক।আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বেতপট্টির সেই কর্মচাঞ্চল্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ এখন শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে মাত্র তিনটি দোকান কোনোমতে টিকে আছে।কারিগর লিটন শেখ জানান, আগে ১৫-২০টি দোকান ছিল, এখন মাত্র ৩টি। রাসায়নিকের তৈরি সস্তা পণ্যের সঙ্গে টিকতে পারছি না। মানুষ সৌখিনতা থেকে কিনলেও সেটা এখন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।অন্যদিকে দোকানদার রহমত বলেন, আগে আমার দোকানে ৪-৫ জন কর্মচারী থাকতো, এখন আছে মাত্র একজন। বেতের কাঁচামাল পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে আনতে সময় লেগে যায়, বর্ষাকালে পণ্যের ক্ষতি হয়। সরকারের সহায়তা ছাড়া এই শিল্প আর টিকবে না।কারিগর আলী আহমেদ বলেন, ৩০০ টাকার মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। নিরাপত্তাকর্মী বা অটোরিকশা চালিয়েও এর চেয়ে বেশি আয় করা যায়। তাই সবাই পেশা বদলাচ্ছে। আগে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পে কাজ করতো, এখন সেই ধারাও আর নেই।রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই শিল্পকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সহজ কাঁচামাল সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি, এবং আধুনিক মার্কেটিং কৌশল। না হলে এই শিল্প হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে, এবং সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে রাজশাহীর একটি গৌরবময় সাংস্কৃতিক পরিচয়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
