শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর আদালত রায় ঘোষণা করেছে। স্ত্রীকে হত্যা ও মরদেহ গুমের দায়ে ইলিয়াস হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্ন মেয়াদে আরও সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে শরীয়তপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সোলায়মান এ রায় ঘোষণা করেন।২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের করিম উদ্দিন মাদবরকান্দি গ্রামের করিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার দ্বিতীয় স্ত্রী আলেয়া বেগমকে (২৮) পারিবারিক কলহের জেরে নির্মমভাবে হত্যা করেন। পরে হত্যার বিষয়টি গোপন রাখতে নিজের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে ফেলেন।দুই দিন পর স্থানীয়রা কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ইলিয়াসের ঘরে প্রবেশ করলে মেঝের মাটি খোঁড়া দেখতে পান। পরে সন্দেহ হলে পুরো মেঝে খুঁড়ে আলেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জাজিরা থানার এএসআই নিজামুদ্দিন বাদী হয়ে ইলিয়াসসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ইলিয়াসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমের দায়ে আদালত ইলিয়াসকে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে মামলার অপর দুই আসামি, যার মধ্যে প্রথম স্ত্রী রত্না আক্তারও ছিলেন, তারা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন।এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং মামলা ছিল। নিহত আলেয়ার সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেছে। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে মূল আসামি ইলিয়াস এখনো পলাতক রয়েছে। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করুক।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
