চট্টগ্রামের আনোয়ারাকে বলা হয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পজোন। এ উপজেলার কেইপিজেডসহ অসংখ্য শিল্পকারখানায় প্রতিদিন কাজ করছেন ৩০-৪০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এর বড় অংশই নারী। তবে কর্মসংস্থানের এ জোন এখন নারীদের কাছে হয়ে উঠেছে ভয়ের অন্য নাম। চাকরির প্রলোভন, ফেরার পথে কিংবা নিজ ঘরে, নারীরা প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার।আনোয়ারা থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে ১১টি ধর্ষণ মামলা রুজু হয়েছে থানায়। এছাড়া আরও তিনটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা রয়েছে।আরও জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি উপজেলার বারশত ইউনিয়নের সিইউএফএল হাউজিং কলোনীতে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সিইউএফএল কর্মচারী রিমন হোসেন (২৮) কে গ্রেপ্তার করে। ২ মার্চ দক্ষিণ শোলকাটা এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ বলছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৯-৩১ মে নবম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) বটতলীতে ধর্ষণের শিকার হয়। গ্রেপ্তার হয় কক্সবাজারের চকরিয়ার মো. কায়সার (২০)। ১৯ জুন কেইপিজেড থেকে ফেরার পথে অটোরিকশায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টা চালানো হয়। গ্রেপ্তার হয় চালক ফোরকান (৩২) ও হানিফ (৩৫)। ২৬ জুন চাকরির প্রলোভনে আনোয়ারা থেকে বোয়ালখালীতে নিয়ে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত বাবু (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ জুন জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে ১৩ বছরের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর মামলা করলে পুলিশ বাবু (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে। ৪-৫ আগস্ট বারশত ইউনিয়নে চাকরির প্রলোভনে দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এনামুল হক রিপন, সাইফুদ্দিন ও কাশেমকে গ্রেপ্তার করে।সবশেষ, ২৪ আগস্ট বটতলী ইউনিয়নে কিশোরী অপহরণের পর ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী বলেন, ‘পরিবারের অভাব দূর করতে হালিশহর থেকে আনোয়ারার কেইপিজেডে চাকরির খোঁজে গিয়েছিলাম। সেখানে এক অমানুষের খপ্পরে পড়ে আমার সর্বনাশ হয়েছে।’এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন ইসলাম বলেন, ‘আগে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হতো। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অপরাধীরা ধরা পড়ছে।’আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ৮ মাসে ১১টি মামলা হয়েছে। অভিযোগ বা তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি।’এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
