জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জমি নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে কাঠার বিল-সানন্দবাড়ী সড়কের লংকারচর সকাল বাজার অংশের ৭০ মিটার সংস্কারকাজ দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।জানা গেছে, কাঠার বিল-সানন্দবাড়ী সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সড়কটির সকাল বাজারের অংশে কিছুটা বাঁক রয়েছে, যা এলজিইডির ম্যাপে দেখানো হয়েছে। সড়কটির বাঁকা অংশের পাশের কিছু জমি নিয়ে স্থানীয় হাসান মাহমুদ গ্রুপ ও আমানত গ্রুপের মধ্যে বিবাদ চলে আসছে। সে কারণে সড়কটির আগের ম্যাপ অনুযায়ী ওই স্থানে কাজ করতে গেলে হাসান মাহমুদের লোকজন বাধা দেয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় সংস্কারকাজ।হাসান মাহমুদ গ্রুপ চায় সড়কটির গতিপথ পাল্টিয়ে সোজা করা হোক; যা এলজিইডির নকশায় নেই এবং নকশার বিকল্প গতিপথ খোঁজা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমানত গ্রুপ।আমানত গ্রুপের দাবি, সড়কটি সরকারি। আগে যে দিক দিয়েছিল, এলজিইডির নকশা অনুযায়ী সেদিক দিয়েই সড়কটি যাবে এবং মেরামত করতে হবে। এতে স্থানীয় কোনো পক্ষ বাধা দিলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি হবে। এই সড়ক সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও বাজারে আসা লোকজন।সরেজমিন দেখা যায়, সকাল বাজারের আগের বাঁকা সড়কের ওপর ঘর তোলা হয়েছে। জোর করে অন্যের জমির ওপর দিয়ে করা হয়েছে সড়ক। সে সড়কে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে আছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায়।লংকারচর গ্রামের হায়দার আলী বলেন, লংকারচর সকাল বাজারের জমির মালিকানা নিয়ে হাসান গ্রুপ ও আমানত গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। হাসান গ্রুপের দাবি সড়কটির গতিপথ পাল্টিয়ে ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর নিয়ে যাওয়ার। আমানত গ্রুপের দাবি সড়কটি আগের ম্যাপ অনুযায়ী রেখে সংস্কার করার।লংকারচরের হযরত আলী বলেন, সকাল বাজারের ওই অংশের সড়ক সংস্কারকাজ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে কয়েকবার। মীমাংসার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায়ও মীমাংসা হয়নি। দ্রুত মীমাংসা না হলে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।আমানত আলী বলেন, সকাল বাজারের বাঁকা রাস্তাটি বহু পুরোনো। হাসান মাহমুদের পক্ষ পেশিশক্তি দেখিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আগের রাস্তায় ঘর তুলে সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। তারা নতুন করে যে সোজা রাস্তা করতে বলছে, সেটা কবরস্থানের ওপর দিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে আদালত আগের রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন।হাসান মাহমুদ বলেন, আগের বাঁকা রাস্তাটি সোজা করা হলে কয়েকটি পরিবারের দ্বন্দ্ব নিরসন হবে। দুই সীমানার মাঝবরাবর রাস্তা সোজা করলে আর কোনো বিরোধ থাকবে না। আমরা চাই সড়কটির গতিপথ সোজা করে সংস্কার করা হোক।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মঞ্জু হোসেন জানান, এলজিইডির নির্দেশেই রাস্তার কাজটি শুরু করা হয়েছিল। বাধার মুখে সকাল বাজার অংশের ৭০ মিটার সড়ক সংস্কার করা যায়নি। এক পক্ষ বলছে, আগের সড়কটি সংস্কার করতে; অন্যপক্ষ বলছে, সড়কটি নতুন করে সোজা করতে হবে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে সংস্কারকাজ স্থগিত থাকায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ঠিকাদার।এলজিইডির দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন বলেন, লংকারচর সকাল বাজারের ৭০ মিটার সড়ক সংস্কারে বাধা আসায় কাজটি বন্ধ রয়েছে। দুই পক্ষ দুই রকম দাবি করছে। তাদের দাবি মেনে কাজ করা সম্ভব নয়। মূলত ম্যাপ অনুযায়ী সড়ক সংস্কারকাজ করতে হবে। সে অনুযায়ী বাজেট করা হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে। দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলা হয়েছে। বরাদ্দ রয়েছে শুধু রাস্তা সংস্কারের। সে মোতাবেক আগের বাঁকা সড়ক মেরামত করতে পারবে এলজিইডি। নতুন করে মেরামত করার বরাদ্দ নেই।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
