কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে অনলাইন জুয়া খেলার নিষেধ দিতে গিয়ে আল আমিন (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আল আমিন উপজেলা তালজাঙ্গা ইউনিয়নের আউজিয়া গ্রামের মৃত মো. দেওয়ান আলীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ক্রিকেট খেলা অনলাইন জুয়া খেলার জুয়ারীদের এজেন্ট এলাকার আলাল উদ্দিনের ছেলে শামিমের সাথে আল আমিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় আল আমিনসহ গুরুত্বর আহত কয়েকজন তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদেরকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন। নাইমুল ইসলাম নাইমসহ এলাকার কয়েকজন তাদেরকে কিশোরগঞ্জ নেওয়ার পথে উপজেলার তালজাঙ্গা বাজারে শামিম তার জুয়ারো বাহিনীর সদস্য এরশাদ, ফরিদ, সোহেলসহ ১০/১২ জনের একটি দল আহতদেরকে রাস্তায় আটকিয়ে পুনরায় অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আল আমিনসহ তাদেরকে জুয়ারীরা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী আহতদের পুলিশ হেফাজতে দেয়। পরে আল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাৎক্ষণিক কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আক শনিবার ভোরে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আউজিয়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে শামিম বহু বছর থেকে অনলাইন জুয়ার এজেন্টের ব্যবসা করে আসছে। তার সংশ্লিষ্টতায় স্থানীয় অনেক যুবক জুয়ার জগতে প্রবেশ করেছে। কিছুদিন পূর্বে শামিম সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে চাকরি পায়। এরপর তিনি তার জুয়ার এজেন্টটি আপন চাচাতো ভাইকে দিয়ে যান। তবে জুয়া থেকে লাভের ভাগ তিনি নিতেন। ঘটনার ৪-৫ দিন পূর্বে শামিম চাকরি থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন এবং পূর্বের মতো জুয়ার ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করেন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাইমুল ইসলাম নাইম বলেন, আমি তাহাদের কিশোরগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার সময় শামিম তার দলবল নিয়ে তালজাঙ্গা বাজারে আক্রমণ করে। আমি ভয়ে দূরে সরে যাই। শামিম গংরা আল আমিনসহ মিজান ও আ. রউফকে মেরে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে সেনাবাহিনী তাদের তাড়াইল থানায় নিয়ে যায়। তখন আল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়। আল আমিন সেখানেই মারা যায়।তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সার্জেন্ট শাখওয়াত আলী নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ১০ সদস্যের একটি দল আল আমিন, মিজান, আ. রউফকে থানায় নিয়ে আসেন। এসময় আল আমিনকে গুরুত্বর আহত দেখে কিশোরগঞ্জ চিকিৎসার জন্য সৈয়দ নজরুলে ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। পরে ভোরে খবর পাই আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। আল আমিনের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে রয়েছে। বাকি দুই জনকে ৫৪ ধারায় কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রের জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
