চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি ওয়ার্ডে ভয়াবহ শয্যাসঙ্কটের কারণে স্ট্রোক রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে ফটকের বাইরে করিডোরে শুইয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে রোগীরা জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর চিকিৎসকদের সেবাদানও কঠিন হয়ে উঠেছে।হাসপাতালের নিউরোলজি ওয়ার্ডে অনুমোদিত বেড ৪৫টি। পরে সেটি বাড়িয়ে ৮৩ করা হলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ঠাঁই পাচ্ছেন বারান্দা, সিঁড়িঘর কিংবা করিডোরের মেঝেতে। বেড ও জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব রোগী করিডোরে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না– যা স্ট্রোক রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।রাতের বেলায় ওয়ার্ডের বাইরে করিডোরে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, এখানে অনেক সময় মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। নারী চিকিৎসকদের জন্যও রাতে করিডোরে চিকিৎসা দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।ফটিকছড়ির আনোয়ার হোসেন তার স্ট্রোকে আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে এসেছেন চমেকে। তিনি বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে বাবার স্ট্রোক হলে হাসপাতালে আনি। ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখনও তাকে ওয়ার্ডে নিতে পারিনি। করিডোরে ফ্যান নেই, বাথরুম নেই, আর মশার উপদ্রব ভয়াবহ। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ, প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’নিউরোলজি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সামী এম আদনান সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘রোগীর ভিড় আমাদের সীমাহীন চাপের মধ্যে ফেলছে। জায়গার সংকুলান নেই, কিন্তু কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগও নেই। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান জানান, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের নিউরোলজি ওয়ার্ড এখন বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও তিন পার্বত্য জেলার রোগীদের ভরসাস্থল। প্রতিদিন অনুমোদিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও জায়গার অভাবে সেবা দিতে হচ্ছে করিডোরে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
