ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে দেশটির ওপর আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পরিদর্শন পুনরায় শুরু করেছে।শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ঠেকাতে চীন ও রাশিয়া একযোগে প্রচেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়। মস্কো আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাগুলো বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবায়নের বিষয়টি সবসময় নিশ্চিত নয়।এর আগে, গত জুনে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলার পর ইরান যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পর ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়। এদিকে, গতকাল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএএ) জানায়, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের হামলার পর এবং এক বিরতির পর এই সপ্তাহে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর পরিদর্শন পুনরায় শুরু হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, কায়রোতে সংস্থাটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এতে সংস্থার মহাপরিচালক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো চাপের সামনে নত হবে না। তবে, আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হলেও ইরান পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসবে না এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে যাবে না।জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি বারবারা উডওয়ার্ড জানান, এই সপ্তাহান্তে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। তবে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইরান যদি সহযোগিতা করে, তাহলে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।”জাতিসংঘে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জেরোম বন্নাফোর্ট জানান, সব পক্ষই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধান খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়েছে।অন্যদিকে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে বারবার ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, তেহরান ইতোমধ্যে কিছু ‘গঠনমূলক’ প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখনও বিবেচনায় আনা হয়নি।ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধুই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আইনগতভাবে দুর্বল এবং প্রক্রিয়াগত দিক থেকেও ত্রুটিপূর্ণ।সূত্র: ইউএন আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
