চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী। গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের কর্ণফুলী থানাধীন মধ্যম বন্দর গ্রামের সিংহপাড়া থেকে নিখোঁজ হয় সে। ওই এলাকার মাঠে তাকে সোমবার বিকেলের শেষ সময়ে খেলতে দেখে স্থানীয়রা। এরপর থেকে স্কুল ছাত্রটি নিখোঁজ রয়েছে।নিখোঁজ শিক্ষার্থী পূজন দাশ অভি (১২) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদন্দী ৩নং ওয়ার্ডের রাজমিস্ত্রি পরিমল দাশের পুত্র। সে আনোয়ারা উপজেলার মেরিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারসহ আনোয়ারা উপজেলার কাফকো সেন্টার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতো এবং দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোট।‘এদিকে আয় বাবা ১০ টাকা নিয়ে যা, কিছু খেয়ে নিস’ নিখোঁজ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ছেলেকে ডেকে এমনটাই বলেছিলেন দিনমজুর বাবা পরিমল দাশ। ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি জানতে চাইলে এভাবে বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকেও তাকে খেলতে দেখেছি। তার আধা ঘণ্টা পর সে নাই হয়ে গেলো। পাহাড়-জঙ্গল কোথাও বাদ রাখিনি, সব জায়গায় খুঁজেছি। তার কয়েকজন বন্ধুও আমার সাথে যোগ দিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করছিলো। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে গতকাল কর্ণফুলী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি।’নিখোঁজ স্কুলছাত্রের বন্ধু রাহুল বলেন, ‘আমরা সবাই এলাকায় ফুটবল খেলছিলাম। এক পর্যায়ে আমরা কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিই। একসাথে কথা বলছিলাম সবাই তখন, সে বলল আতশবাজি কিনতে যাবে। আমরা বাঁধা দিলাম না, সেই যে আতশবাজি কিনতে গেলো আর ফিরল না। আশেপাশে দোকানেও খোঁজ নিয়েছি, তারা জানালো, সে কিছুই কিনতে যায়নি।’নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের আরেক বন্ধু শিবু বলেন, ‘পূজন খুবই চঞ্চল আর হাসিখুশি ছেলে। আমরা প্রায়ই একসাথে খেলতাম। সেই দিনও খেলাধুলার পর ও হঠাৎ করে কি যেন কিনতে যাবে বলে হারিয়ে যায়। আমরা অনেকক্ষণ খুঁজে দেখি নাই। তারপর ওর বাবাকে জানাই। এখন সবাই খুব চিন্তিত। ওর মা কাঁদছেন সারাদিন। আমি শুধু চাই, পূজন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক।’নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে পাগলপ্রায় গার্মেন্টসকর্মী মা মঞ্জু দাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমার একটা মাত্র ছেলে। আমি চোখে কিছুই দেখছি না, এ কয়েকদিনে ঘুমাতে পর্যন্ত পারিনি। তার খোঁজে এদিক সেদিক ছুটছি। গত দুইদিন ধরে চাকরিও কামাই করেছি। আমি চাই, আমার ছেলে আমার ঘরে ফিরে আসুক।’স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, ‘পূজন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি করছি এবং থানায় জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করুন।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।’ এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
