বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে আনোয়ারা উপজেলায় মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ে এখন দিন-রাত অবিরাম কাজ চলছে। খড়, মাটি, পাট ও কাঁদায় তৈরি প্রতিমাগুলো শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে পাচ্ছে শৈল্পিক রূপ।সরেজমিনে দেখা যায়, এবারের পূজাকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। জয়কালী বাজারের শিল্পী রাকেশ রায় জানান, বছরজুড়ে তেমন কোনো কাজ থাকে না, দুর্গাপূজাই আমাদের ঘরে আনন্দ আনে। এবারে চারজন শ্রমিক নিয়ে ১৪টি প্রতিমা তৈরি করছি। বড় প্রতিমার দাম পড়ছে ৫০-৫৫ হাজার টাকা এবং ছোটগুলোর ৩০-৩৫ হাজার টাকা।ইছামতী এলাকার মৃৎশিল্পী দীপক দত্ত বলেন, আমাদের আয়-রোজগারের প্রধান সময়ই দুর্গাপূজা। এবারে প্রায় ১৫টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছি। প্রতিটি প্রতিমার দাম ২০-২৫ হাজার টাকা। কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে কাজ করছি, রং ও সাজসজ্জা শেষে এগুলো মণ্ডপে পৌঁছে যাবে।এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা কমিটি জানিয়েছে, আনোয়ারার ১১টি ইউনিয়নে ১১৪টি সার্বজনীন পূজা ও ১৮৫টি ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আহ্বায়ক সাগর মিত্র জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিম দায়িত্বে থাকবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার, গ্রাম পুলিশ ও পুলিশ টিম নিয়োজিত থাকবে।আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, পূজাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি বিশেষ টহলও চলবে।মহালয়ার মধ্য দিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজা, আর ২ অক্টোবর মহাদশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে।উৎসবকে ঘিরে এখন আনোয়ারা উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা, প্রশাসনের প্রস্তুতি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
