কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেরই সময়মত খাবার খাওয়া হয় না। দেখা যায়, সকালের নাশতা খেতে খেতে প্রায় দুপুর হয়ে যায়। এ কারণে দুপুরের খাবার খেতে বিলম্ব হয়। একইভাবে রাতের খাবারেও হয়। কখনো কখনো তো খাবারই খাওয়া হয় না। সময়মত খাবার না খাওয়া হলে শরীরের নানা ক্ষতি হয়। বিশেষ করে শরীরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেমন প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে শরীর তার শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং হারিয়ে ফেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। এ কারণে নতুন নতুন নানা রোগ বাসা বাধে এবং আগে থেকে থাকা ছোট ছোট রোগগুলো জটিল আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা ওয়েবসাইট হেলথশটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার তাহলে সময়মত খাবার না খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে নেয়া যাক।সকালের নাশতা না করলে: অনেকে অফিস বা কাজের তাড়ায় সকালের খাবার বাদ দেন। এতে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং সারা দিন ক্লান্তিভাব থাকে। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে হজমশক্তিও কমে যায়।রাতে দেরিতে খেলে: অনেকেই রাতে দেরিতে ও ভারী খাবার খান, তারপর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন। এতে লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং হজমের সমস্যা হয়। ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং লিভারজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।বিকেলের পর ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন: বিকেল ৩টার পর ভারী বা ঠাণ্ডা খাবার খেলে তা সহজে হজম হয় না। পেট ফেঁপে থাকা, অস্বস্তি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই সময় হালকা খাবার খাওয়াই ভালো।খালি পেটে চা-কফি নয়: খালি পেটে চা বা কফি খেলে এসিডিটি বাড়ে এবং অন্ত্রে জ্বালাভাব সৃষ্টি হয়। এতে হজমের সমস্যা হয় এবং পাকস্থলীতে ক্ষতি হতে পারে।রাতে দেরিতে খেলে ঘুমের সমস্যা হয়: মধ্যরাতে খাবার খেলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বিঘ্ন ঘটে, ফলে ঘুমের সমস্যা হয়। চোখ-মুখ ফুলে যায়, ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং ক্লান্তিভাব বাড়ে।সুস্থ থাকতে যা করবেন: ১। প্রতিদিন সময়মতো খাবার খান ২। সকালেই পুষ্টিকর ও ভারী খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন ৩। দুপুরের পর হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান ৪। রাতে খুব দেরিতে বা ভারী খাবার খাবেন না সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া করলে শরীর যেমন সুস্থ থাকবে, মনও থাকবে চনমনে। তাই যতই ব্যস্ততা থাকুক, নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
