আজ বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। গাড়িমুক্ত দিবস পালনের উদ্দেশ্য গাড়িকে রাস্তা থেকে চিরতরে হটিয়ে দেয়া নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গতকাল রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ডিটিসিএ। আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনের নিচে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংস্থাটি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বায়ুদূষণ বিশ্বের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর একটি। ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। এই দিবসে ইউরোপের বহু শহরে নির্দিষ্ট সড়ক পুরোপুরি গাড়িমুক্ত রাখা হয়। মানুষ হাঁটাহাঁটি করে, সাইকেল চালায় বা গণপরিবহন ব্যবহার করে। বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরাও এ নিয়ে নানা সচেতনতা কর্মসূচি পালন করে থাকেন।ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোয় প্রতিদিন কয়েক লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কে নামে। এগুলো যানজট বাড়ায়, জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় এবং বায়ুতে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মনে করে, দিনে অন্তত এক দিন হলেও গাড়িমুক্ত সড়ক তৈরি করা গেলে মানুষ বিকল্প পরিবহন ব্যবহারে আগ্রহী হবে।১৯৭৪ সালে প্রথম সুইজারল্যান্ডে গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। নব্বইয়ের দশকে উদ্যোগটির আরও প্রসার ঘটে। বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠে ‘কার ফ্রি সিটি নেটওয়ার্ক’। ১৯৯৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে ৩৪টি শহরে পালিত হয় দিবসটি। পরের বছর ফ্রান্স ও ইতালির ৯০টি শহরে ব্যাপক সাড়া ফেলে গাড়িমুক্ত দিবস। ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের ৩৩টি দেশের প্রায় ১ হাজার শহরে এ দিবস পালিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪ হাজার শহরে পালিত হয় দিবসটি।বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দিবসটি পালন শুরু হয়, যেখানে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) মুখ্য সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে এসেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বিশ্বের অন্যতম যানজটপ্রবণ ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও সরকারিভাবে এই দিবসটি পালনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বাংলাদেশে এই দিবসটি পালনের প্রায় দেড় যুগ পার হতে চললেও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ও ফলপ্রসূ পরিকল্পনা ও নীতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সমাজ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে টেকসই পরিবহনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান বক্তারা।বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় উঠে এসেছে যানজটের কারণে ঢাকায় প্রতিবছর ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে পরিবহন খাতের কার্বন নিঃসরণ শহরের গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তাদের তথ্যমতে, বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।এ সময় প্রশস্ত ও নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ, হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, নতুন গাড়ি নিবন্ধনে উচ্চ কর, অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রধান সড়কে নিরাপদ সাইকেল লেন, সাইকেল পার্কিং হাব ও সাইকেল-শেয়ারিং ব্যবস্থা, বাসরুট র্যাশনালাইজেশন এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান তারা।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
