একাধিক অভিযোগ ও তীব্র জনঅসন্তোষের পর নাটোরের গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসমাউল হককে অবশেষে থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখায় সংযুক্ত করা হয়। একই আদেশে নাটোর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক দুলাল হোসেনকে গুরুদাসপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় ওসি আসমাউল হকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ওঠে। সভায় অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেন, থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ ওসির সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, সেবা পেতে হচ্ছে হয়রানি, এমনকি নারীরা ভুক্তভোগী হয়ে থানার গেটেই আটকে থাকছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এলাকায় ট্রান্সফরমার ও অটোভ্যান চুরি, মাদক বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগও তোলা হয়। সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ নিজেও জানান, ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার তিনি হয়েছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য একাধিকবার পুলিশ সহায়তা চাইলেও পাননি। বড় ধরনের অনুষ্ঠান ও অভিযানে থানার প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও তিনি স্পষ্ট করেন।পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়ের কণ্ঠস্বরে ‘ওসির সঙ্গে দেখা করতে পারেন না সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা সভায় অসন্তোষ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরদিনই এসপি তারিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বদলির আদেশ কার্যকর হয়।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
