চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। একের পর এক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে একটি পরিবার, আর সেই শোক ছুঁয়ে গেছে পুরো গ্রামকেও।মাত্র দেড় মাস আগে মারা যান গ্রামের প্রবীণ ইউসুফ সওদাগর। ভেবেছিল পরিবার, সময়ের সঙ্গে হয়তো ধীরে ধীরে ক্ষত কমে আসবে। কিন্তু শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে একই ঘরে আবারও শোকের মাতম। না ফেরার দেশে চলে গেলেন ইউসুফ সওদাগরের ছোট ছেলে, ২৬ বছর বয়সী মাদ্রাসাশিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন বাবু।পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে যথারীতি মাদ্রাসায় পাঠদান শেষে দুপুরে বাড়ি ফেরেন বাবু। কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। দুই দিনের জীবনযুদ্ধ শেষে শনিবার বিকেলে মৃত্যু হয় তার।মাত্র আট মাস আগে মেজবাহর বিয়ে হয়েছিল। নববধূ নাসরিন সুলতানা নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি কান্নার ফাঁকে শুধু বলছিলেন, ‘শ্বশুরের পর স্বামীকেও হারালাম, আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে মেজবাহ ছিলেন সবার ছোট। বড় দুই ভাই প্রবাসে থাকেন। পরিবারের সবার আদরের এই ছেলেকে হারিয়ে স্বজনদের বুক ফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।স্থানীয় ইউপি সদস্য ছানোয়ারা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘এমন ভদ্র-নম্র ছেলেটি ছিল গ্রামের গর্ব। বাবার মৃত্যুর দেড় মাস না যেতেই ছেলেকেও হারাল পরিবারটি। তারা এখন অসহায় শোকে ভেঙে পড়েছে।’শোকের আবরণে ঢেকে গেছে কর্ণফুলীর বড়উঠান গ্রাম। নিস্তব্ধতায় ভেসে আসছে স্বজনদের কান্নার ধ্বনি আর শূন্যতার হাহাকার।মেজবাহ উদ্দিন বাবু কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবির মাঝির বাড়ির মৃত ইউসুফ সওদাগরের ছেলে। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
