মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস বলেছেন, অনেক মানুষ ভুল করে নবিজি (সা.) ও তার জীবনকে অন্যান্য মহান ব্যক্তিদের জীবনের মতো করে দেখে ও আলোচনা করে। অন্যান্য মহান ব্যক্তিদের মতোই তারা শুধু তার নিজস্ব জ্ঞান, প্রতিভা বা বাগ্মিতা নিয়ে আলোচনা করে। এটা ঠিক যে, আল্লাহ তাআলা তার রাসুলকে একজন মানুষ হিসেবে সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি দান করেছিলেন। তবে এর সাথে সাথে মনে রাখতে হবে, তিনি কোনো সাধারণ নেতা, সংস্কারক বা রাজা-বাদশাহ ছিলেন না; তিনি ছিলেন আল্লাহ তাআলার প্রেরিত নবি, যিনি তার রবের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।নবিজির (সা.) প্রশংসায় বাড়াবাড়ির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আপনারা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করবেন না, যেমন খ্রিস্টানরা মারিয়ামের ছেলের (ঈসা আ.) প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করেছে। আমি শুধু আল্লাহর তাআলার একজন বান্দা, তাই আমার ব্যাপারে এভাবে বলুন যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসুল।’ (সহিহ বুখারি)শায়খ সুদাইস বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, কিছু মুসলমান আল্লাহর রাসুলকে ভালোবাসার দাবি করে তার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করে, কিন্তু তারা নিজেদের জীবনে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেয় না। তারা তাকে নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে না, নিজেদের কথা ও কাজে তার অনুসরণ করে না, যা ছিল তার প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ।তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুলকে সত্যিই ভালোবাসলে আপনাদের হৃদয় ও আত্মাকে তার মহান গুণাবলি দিয়ে পূর্ণ করুন। আপনাদের জীবনকে আলোকিত করুন তার আলোয়। তার সাথে নিজের জীবনের প্রত্যেকটি কাজের, প্রত্যেকটি মুহূর্তের অবিচ্ছিন্ন, গভীর ও খাঁটি বন্ধন গড়ে তুলুন, যেমন তার সাহাবিরা গড়ে তুলেছিলেন।মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।’ (সূরা ২৪ আন-নূর, আয়াত ৫৬)। হাদীস শরীফে ইরশাদ রয়েছে, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মাঝে কেহ (পূর্ণ) ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হব।’ (বোখারী শরীফ)।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
