পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীগুলোর মধ্যে হাতি অন্যতম। এ প্রাণী রক্ষায় এবার মাঠে নেমেছে বনবিভাগ। হাতিকে বিরক্ত না করা ও হত্যা রোধে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।এসময় স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিংসহ নানা প্রচার-প্রচারণা চালায় চট্টগ্রাম বনবিভাগ। স্থানীয়দের হাতির অবাধ বিচরণে বাঁধা না দেয়ার এবং হাতি হত্যায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।ক্যাম্প চলাকালে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকিরখীল এলাকা থেকে হাতি হত্যার জন্য তৈরি একাধিক বৈদ্যুতিক ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এসব ফাঁদের সরঞ্জাম জব্দ করে বনবিভাগ।এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জাহেদুল ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই স্থানীয়দের সচেতন করতে বনবিভাগ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।ক্যাম্পে অংশ নেন বাঁশখালী (জলদি) রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ, চট্টগ্রাম বনবিভাগের কর্মীরা এবং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) প্রায় দেড় শতাধিক সদস্য।বাঁশখালী (জলদি) রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘স্থানীয় জনসাধারণকে হাতি বিরক্ত না করতে ও বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি থেকে বিরত রাখতে আমরা এই সচেতনতামূলক ক্যাম্প পরিচালনা করছি। ক্যাম্প চলাকালে বৈরাগের ফকিরখীল এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক ফাঁদ উদ্ধার করা হয় এবং সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।’ফাঁদ তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার কাছে কি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে কারা এসব করেছে? প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না। প্রথমবার স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কেউ একই অপরাধে জড়িত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘হাতি আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। তবে বনবিভাগের সচেতনতামূলক মাইকিংয়ের বিষয়ে আমি অবগত নই। মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যারা অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
