সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সুদ ব্যবসায়ীর দায়ের করা মিথ্যা মামলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম নামের এক দরিদ্র কৃষক। ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। ভয় ও আতঙ্কে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই কৃষক।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চিথুলিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম মৃত আয়নাল হক মন্ডলের ছেলে। আর অভিযুক্ত সুদ ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন একই গ্রামের মৃত কাশেম সরদারের ছেলে।সরেজমিনে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ওই গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসে অসুস্থ পিতার চিকিৎসার জন্য মোক্তারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা সুদে ধার নেন অশিক্ষিত কৃষক শরিফুল। এ সময় এনআরবিসি ব্যাংকের তালগাছি সাব ব্রাঞ্চের দুটি চেক বন্ধক দেন তিনি। পরে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে গেলে মোক্তার জমি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে বেশি দাম পাওয়ায় শরিফুল অন্যত্র জমি বিক্রি করে দেন।এর এক মাস পর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সুদসহ ১ লাখ ৪ হাজার টাকা মোক্তারকে ফেরত দেন শরিফুল। কিন্তু চেক ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে মোক্তার একটি চেকের দুই কপি ফটোকপি দিয়ে দেন। সরল কৃষক শরিফুল তা বুঝতে না পেরে ওই কপিই রেখে দেন।পরে সেই সাদা চেকে ৬ লাখ টাকা বসিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিজঅনার করান মোক্তার হোসেন। এরপর গত ১৪ জুলাই তার স্ত্রী হাবিজা বেগমকে বাদী করে শাহজাদপুর আমলী আদালতে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অসুস্থতার অজুহাতে ওই মামলায় হাবিজা বেগম তার ছেলে নয়নকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। পরে গ্রাম্য শালিসে গ্রামবাসী অসহায় কৃষক শরিফুল ইসলামের পক্ষে গণস্বাক্ষর প্রদান করেন।ভুক্তভোগী কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, বাবার অসুস্থতার কারণে বাধ্য হয়ে সুদে টাকা নিয়েছিলাম। পরে ফেরতও দিয়েছি। কিন্তু এখন জালিয়াতি করে আমার নামে ৬ লাখ টাকার মামলা করেছে। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি। ন্যায়বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু মোক্তার কারও কথা শুনছে না, উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি অসৎভাবে গ্রামের অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন। তাই তাই আদালত ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।জানতে চাইলে মামলার বাদী মোছা. হাবিজা বেগম বলেন, ‘শরিফুল আমার বাড়িতে এসে ৬ লাখ টাকা নিয়ে ব্যাংকের চেক রেখে যায়।’ এসময় তার স্বামী গ্রামবাসীর সামনে টাকা ফেরতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তার কাছ থেকে আলাদাভাবে টাকা নিয়ে তখন ফেরত দিয়েছিল।এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের তালগাছি সাব ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মো. তাজুল ইসলাম জানান, ‘নিয়ম মেনেই শরিফুল ইসলামের চেক ডিজওনার করা হয়েছে।’ মিমাংসার সুযোগ না দিয়ে উল্লেখিত তারিখেই চেক ডিজওনার দিয়ে একজন গ্রাহককে বিপদে ঠেলে দেওয়া ঠিক হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি। অথচ এই সকল ক্ষেত্রে অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহককে ডিপোজিটের সুযোগ অথবা মিমাংসা করে নেয়ার সুযোগ করে দেন।এদিকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিবেদককে কল দিয়ে হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত সুদ ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
