চট্টগ্রামের প্রধান জীবনধারা কর্ণফুলী নদী ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় নদীর পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপজ্জনক মাত্রা শনাক্ত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতি শুধু নদীর প্রতিবেশ নয়, মানবস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্ণফুলীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে ১৪.২৩ থেকে ২৬.৬৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অপরদিকে নদীর তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে ৭৫.৬৩ থেকে ২৭২.৪৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এ কণার মধ্যে ফাইবার জাতীয় উপাদান যেমন পলিথিলিন, পলিথিন টেরেফথালেট, পলিস্টায়রিন ও আলকিড রেজিনের আধিক্য বেশি।গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন বর্জ্য কর্ণফুলীতে গিয়ে মিশছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, পলিথিন, ভাঙা আসবাব, জুতার টুকরা, কাচের বোতল, মাছ ধরার জাল, খাদ্যবর্জ্যসহ নন–বায়োডিগ্রেডেবল উপাদান। শিল্পকারখানা থেকেও অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ঋতুভিত্তিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুম উভয় সময়েই নদীর নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি দূষিত।গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কর্ণফুলীর মাছ, শামুক ও কাঁকড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। এগুলো মানুষের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্লাস্টিক কণা ও এর সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতু মানবদেহে প্রবেশ করছে। এতে হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ, পুষ্টিহীনতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু প্লাস্টিক দূষণই বাড়াচ্ছে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত ধাতব উপাদান যেমন সীসা, ক্রোমিয়াম ও নিকেল অক্সিজেন ক্ষয়, জৈব ও রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বৃদ্ধি এবং মাছের প্রজনন ও বেঁচে থাকার সক্ষমতা হ্রাস করছে। পরিবেশবিদদের মতে, এ প্রবণতা নদীর সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনবে।এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদীতে বর্জ্য প্রবাহ রোধে আমরা কাজ করছি। তবে এই শহর ও নদী সবার, তাই সকলকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।’পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
