এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচ হারলে কার্যত এখানেই শেষ হয়ে যেত বাংলাদেশের এবারের এশিয়া কাপ মিশন। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব বিভাগে দাপট দেখিয়ে ম্যাচটি জিতেছে টাইগাররা। আমিরাতের শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করে আফগানিস্তান। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের শেষের বোলিং জাদু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে।কোথায় জিতল বাংলাদেশ?বাংলাদেশের জয়টা এসেছে মূলত বল হাতে। ব্যাটিংয়ে খুব আশানারূপ ভঅলো করতে না পারলেও দুর্দান্ত ফিল্ডিং আর নির্ভুল বোলিং পরিকল্পনায় ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।নাসুম আহমেদ ম্যাচের শুরুতেই চাপে ফেলেন আফগানদের। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। এরপর রিশাদ হোসেন মাঝের ওভারে ৪-০-১৮-২ স্পেলে আটকান রান। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে ১৯তম ওভারে।মুস্তাফিজুর রহমান টানা দুই বলে তুলে নেন রশিদ খান ও গজনফারের উইকেট। ৪ ওভার বল করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২ রান, সেখানে তাসকিন আহমেদ প্রথমেই চাপের মুখে পড়ে যান। দুই ছক্কা খেলেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে শেষ বলেই নূর আহমেদকে আউট করে ম্যাচের ইতি টানেন। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট১৮তম ওভারের পর আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ রান, হাতে তখনও ৩ উইকেট। রশিদ খান আর নূর আহমেদ তখন ম্যাচকে নতুন করে গড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু মুস্তাফিজের নিখুঁত ইয়র্কারে এক ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে খেই হারায় আফগানরা।শেষ ওভারে ২২ রানের সমীকরণকে স্নায়ুর পরীক্ষা বানিয়ে ফেলেন তাসকিন। যদিও প্রথম দুই বলে ছক্কা খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়, কিন্তু পরের চার বলে মাত্র ২ রান দিয়ে শেষ বলে উইকেট তুলে নেন।ব্যাটিংয়ে তানজিদ-সাইফের জুটি, শেষ দিকে ছোট ক্যামিওবাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান এসেছে তানজিদ হাসানের ব্যাটে। ৩১ বলে ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন এই তরুণ ওপেনার। তার সঙ্গে ২৮ বলে ৩০ রান করেন সাইফ হাসান। মিডল অর্ডার কিছুটা নড়বড়ে হলেও, শেষ দিকে জাকার আলি অনিক ও নুরুল হাসান সোহানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস (যথাক্রমে ১৩ ও ১২ রান) দলকে ১৫৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেয়।আফগানিস্তান হেরে গেল কোথায়?আফগানদের হারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বড় জুটি না হওয়া। গুরবাজ, ওমরজাই, রশিদ খান সবাই ছন্দে ছিলেন, কিন্তু কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। আফগানিস্তানের ব্যাটিং ধসে পড়ে শুরুতেই, নাসুম-রিশাদদের স্পিন জুটিতে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে চাপ আর সামাল দিতে পারেনি আফগানরা।এই জয়ে বাংলাদেশ সুপার ফোরে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। এখন সব নির্ভর করছে গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফল এবং নেট রান রেটের ওপর। আফগানিস্তানের জন্যও এখন সব কিছু নির্ভর করছে অন্যের ওপর। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে আফগানরা। সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে কোনো জটিল সমীকরণ ছাড়াই সুপার ফোরে পৌঁছে যাবে লিটন দাসের দল। অন্যদিকে আফগানিস্তান জিতলে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে রান রেটের দিকে। আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
