দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ পূর্ব তিমুরে সংসদ সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে দেশটিতে দ্বিতীয় দিনের মতো পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন।মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানী দিলিতে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জাতীয় সংসদের সামনে জড়ো হয় এবং প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য টয়োটা প্রাডো এসইউভি কেনার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। বিক্ষোভকারীরা বেশিরভাগই রাজধানীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিক্ষোভকারীরা ‘চোরদের থামাও’ লেখা ব্যানার বহন করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।এসময় বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছে টায়ার ও একটি সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা জবাবে আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ৩৪ বছর বয়সী কর্মী ডোমিঙ্গোস ডি আন্দ্রেড মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। এই সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের সভাপতির নেওয়া উচিত।’এর আগে সোমবারও (১৫ সেপ্টেম্বর) একই ধরনের বিক্ষোভ হওয়ার পর কয়েকটি রাজনৈতিক দল ঘোষণা করে, তারা সংসদকে পরিকল্পনাটি বাতিল করতে অনুরোধ করবে। তবে ওই দলগুলো আগেই ২০২৫ সালের বাজেট অনুমোদন করেছিল যেখানে গাড়ির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বা সংসদ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেতে পারে, কিন্তু সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া যাবে না।’ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ন্যাশনাল কংগ্রেস ফর তিমোরিজ রিকনস্ট্রাকশন, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং এনরিচ দ্য ন্যাশনাল ইউনিটি অফ দ্য সন্স অব তিমোর জানায়, আইনপ্রণেতাদের জন্য এই গাড়ি কেনা ‘জনস্বার্থ প্রতিফলিত করে না’ এবং তারা সংসদকে পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য বলবে।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে নবীন দেশ পূর্ব তিমুর ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। সাবেক পর্তুগিজ উপনিবেশটি বৈষম্য, অপুষ্টি ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়ছে এবং দেশটির অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
