শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পর সম্প্রতি আমরা আরেকটি অভ্যুত্থান দেখতে পেলাম নেপালে। নেপালের জেন-জিদের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। ভেঙে পড়েছে দেশটির শাসন ব্যবস্থা। এর আগে, নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকার ফেসবুক, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষতিগ্রস্তরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তা শুরু হয় সরকারের অবাধ দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জেন জি প্রজন্মের ভয়াবহ বিক্ষোভ। এদিকে এখনো পর্যন্ত নেপালে চলমান জেন-জি আন্দোলনে নিহত বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আহত হয়েছে আরও হাজারের বেশি মানুষ।দেশটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বিক্ষোভের সময় মোট এক হাজার ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১৩ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ২৫৩ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।নেপাল গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক অস্থির সময় পার করছে। শুধু মাত্র সোমবারেই হাজারও তরুণের এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছে। তরুণদের সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুই দিনের জেন-জি আন্দোলনের পর নেপালজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কেবল সরকারি অবকাঠামোতেই ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এতে শুধু ভবন নয়, অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ ও সরকারি রেকর্ডও ভস্মীভূত হয়েছে।নেপালের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর সিংহ দরবার, পার্লামেন্ট ভবন ও সুপ্রিম কোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ভবন নির্মাণে বিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এগুলোকে সাধারণ মেরামতের মাধ্যমে আর চালু করা সম্ভব নয়। পুনর্নির্মাণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি লাগবে। ক্ষয়ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে কাঠমান্ডুতে। তবে পোখারা, ইটাহারি, জনকপুর, ধনগড়ি ও বিরাটনগরসহ বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়, প্রাদেশিক পরিষদ ভবন, কারাগার, থানাসহ অসংখ্য পৌরসভা ও ওয়ার্ড কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি অরাজক গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, গাড়ির শোরুম, গণমাধ্যম অফিস এমনকি স্থানীয় জনসুবিধার অবকাঠামোতেও হামলা চালায়।আন্দোলন সোমবার সহিংস রূপ নেয়, যখন পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত হন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই অরাজক গোষ্ঠী বিক্ষোভে ভিড়কে ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এই ধ্বংসযজ্ঞে নেপালের রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁবু থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে, আর সিংহ দরবারের অধিকাংশ কার্যালয় পুড়ে গেছে। পার্লামেন্ট ভবনও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ায় আইনপ্রণেতারা ভবিষ্যতে কোথায় বসবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।একই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা চলছে, কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠক করার মতো কোনো অক্ষত ভবনই রাজধানীতে অবশিষ্ট নেই।নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০০ বিলিয়ন রুপির ক্ষতির হিসাব কেবল প্রাথমিক। অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি খরচ হতে পারে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
