সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকে কেন্দ্র করে এবং দুর্নীতির অভিযোগে তরুণদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। হিংসাত্মক আন্দোলনের মুখে তিনি ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে গেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তবে তিনি কোন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই দেশটি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে ফেললে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওলি হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন। তার সাথে ছিলেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী।তবে ঠিক কোন দেশে ওলি আশ্রয় নেবেন বা নিয়েছেন তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হয়তো ভারত, চীন অথবা তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় নেবেন। এদিকে রিপাবলিক ওয়াল্ড বলছে, চিকিৎসার আড়ালে দুবাইতে অস্থায়ী আশ্রয় চাইছেন কে পি শর্মা।কে পি শর্মা ওলির দেশত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারত তাকে আশ্রয় দেবে কিনা। এমন প্রশ্নের অবশ্য যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ভারত সাথে নেপালের সম্পর্ক অন্য যেকোনো প্রতিবেশীর থেকে ভালো। তাছাড়া নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনেও ইতোপূর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ভারত।তাছাড়া এর আগেও নেপালের অনেক নেতা ভারতে নির্বাসনে কাটিয়েছেন। বিশেষ করে মাহেন্দ্র রাজতন্ত্র ও বিভিন্ন গণ আন্দোলনের সময় এটি দেখা গেছে। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, কে পি শর্মাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেবে ভারত।তবে আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি এতো সহজ নয়। নেপালি কংগ্রেসের সমর্থনে জুলাই ২০২৪ সাল থেকে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ওলি। এর আগে ২০১৫-১৬, ২০১৮-২১ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য, ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নেপালের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি প্রায়ই ভারতের সমালোচনা করেছেন। তাছাড়া কূটনৈতিক পাড়ায় তিনি চীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। সাধারণত নেপালে কোনো সরকার গঠন হলে, সেই সরকারের প্রধান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতে যান। তবে ওলি ২০২৪ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যান চীনে। এর ফলেই নরেন্দ্র মোদীর সাথে যে তার সম্পর্ক ভালো নয়, তা অনুমান করা যায়।তাছাড়া ২০২০ সালে সীমান্ত ও মানচিত্র ইস্যুতে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান করেন। ফলে ঐ সময় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। তাছাড়া ভারত কোনোভাবেই চাইবে না নেপালের মানুষের সাথে তাদের যে সম্পর্ক বিদ্যমান, তা বিনষ্ট করতে।তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয় না দিলেও মানবিক কারণে বা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে গোপনে নিরাপত্তা ও সাময়িক আশ্রয় দিতে পারে।প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন নিয়মনীতি না মানার অভিযোগে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই দেশটির রাজধানীতে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো নেপালে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
