জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙা ইউনিয়নের চর হাতিভাঙাসহ কয়েকটি গ্রাম চারদিকে নদীবেষ্টিত একটি অঞ্চল। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক কাজ কিংবা হাঁট-বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেই নদী পার হতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। উত্তরে কাঠারবিল, পূর্বে সবুজপুর ও দক্ষিণে রয়েছে ঝালরচর খেয়াঘাট। জীবনের ঝুঁকি ও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে নদী পার হন তারা। একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অত্র অঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। জিঞ্জিরাম নদীর কাঠারবিল-হাতিভাঙা সংযোগে সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসীর।জানা গেছে, চর হাতিভাঙা গ্রামটি দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র, পূর্বে ও উত্তরে জিঞ্জিরাম এবং পশ্চিমে যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। হড়িচন্ডী, সন্ন্যাসীর চর, কিশামতধলী, পাথালিয়া পাড়া, আন্ডারচরসহ এরেন্ডাবাড়ির হাজারো মানুষ হাতিভাঙা দিয়ে জিঞ্জিরাম নদী পার হয়। স্কুল, কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদ, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে নদীর উত্তর পাড়ে কাঠারবিল এলাকায়। তাই চর হাতিভাঙা অঞ্চলের মানুষকে কাঠারবিল যাতায়াত করতে হয় প্রতিনিয়ত। যাতায়াতে নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা।সরেজমিন দেখা যায়, হাতিভাঙা-কাঠারবিল ঘাটে নৌকা দিয়ে পার করা হচ্ছে যাত্রী ও মালপত্র। নৌকা পার হতে ঘাটের ইজারাদারকে জনপ্রতি ১০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকা ও অটোভ্যান প্রতি ৬০ টাকা করে দিতে হয়। দু’পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে মালামাল বোঝাই অটোভ্যান। নৌকায় ওই ভ্যান তুললেই যাত্রী ও মোটরসাইকেল পার হওয়া দুষ্কর। আগে পার হওয়া নিয়ে মাঝেমধ্যেই বাকবিতন্ডা হয় ভ্যানচালক ও যাত্রীদের মাঝে।স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। হাট-বাজার, চিকিৎসা সেবা, ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘসময় খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী, বয়স্ক কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি। দীর্ঘদিন ধরে জিঞ্জিরাম নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না।হাতিভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ বলেন, ‘এলাকাবাসীর স্বার্থে জিঞ্জিরাম নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিভিন্ন অফিসে তদবির করছি দীর্ঘদিন ধরে। নদীর সবুজপুর ও কাঠারবিল পয়েন্টে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কয়েকবার। কিন্তু ফল মিলছে না কোনোভাবেই। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় অতিসত্বর জিঞ্জিরামে সেতু নির্মাণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’হাতিভাঙা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘দীর্ঘ দিন ধরে দু’পারের মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি একটি রশি টানা নৌকায় একমাত্র ভরসা তাদের। ব্রিজ নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের কষ্ট দূর হবে। তাই দাবি জানাই দ্রত ব্রিজ নির্মাণের।’স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ‘কাঠারবিল-চর হাতিভাঙা একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন হবে। তারপর সেখানে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
