দেশের মিনি পার্লামেন্ট বলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।রোববার ছিল প্রচারণার শেষ দিন। সারাদিন ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, লিফলেট বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণা। টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, অনুষদ ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে কর্মীদের সরগরম পদচারণায় মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়।এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে একজন ও এজিএস পদে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।এবার ভোট দেবেন মোট ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। বিকেল ৪টার মধ্যে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন হল সংসদ নির্বাচনের এক প্রার্থী। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ভিপি প্রার্থী মাসুম বিল্লাল তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে মাসুম বলেন, ‘আমি মাসুম বিল্লাল। আমি আমার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আমি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছি। আমি জানি কর্মীর চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ।’তবে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত পৃথক ৩টি জরিপেই এখনো পর্যন্ত এগিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটকে দেখানো হয়েছে। তবে এসব জরিপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত দুটি জরিপ প্রতিষ্ঠান শিবির নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও ছাত্রশিবির এ অভিযোগ নাকচ করেছে।রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের করা এক জরিপে দেখা যায়, প্যানেলভিত্তিক প্রতিযোগিতায় শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ‘শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশা’ শিরোনামে ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ জরিপের ফল প্রকাশ করে সংগঠনটি।জরিপটি ২৯ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অনলাইন-অফলাইন মিলে মোট ৯০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এতে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৮৪.৭৮%। সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন ১৩.১১% এবং অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন ২.২২ শতাংশ। জরিপে সর্বোচ্চ ৩৮.৮৫% মতামত পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।এর আগে শনিবার ন্যারেটিভ এক জরিপ প্রকাশ করে। এতে ১৪টি হলের মোট ৫২০ জন শিক্ষার্থীর স্যাম্পল নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মোট ৯৪.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী, যেখানে মাত্র ৫.১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিতে অনাগ্রহী। এদিকে ভিপি পদে ২৪.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন। জরিপে এগিয়ে আছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি পেয়েছেন ৪১.৯ শতাংশ সমর্থন। শামীম হোসেন পেয়েছেন ১৬.৫ শতাংশ, ছাত্রদল মনোনীত আবিদুল ইসলাম ১৩.৯ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৮.৮ শতাংশ ভোটারের সমর্থন।জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে ৩৩.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী সিদ্ধান্তহীন। শিবির সমর্থিত এস এম ফরহাদ ৩২.১ শতাংশ। ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর বারি হামিম ও সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের আরাফাত চৌধুরী উভয়েই পেয়েছেন ১৬.১ শতাংশ করে সমর্থন। এছাড়া আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ১৩.৭ শতাংশ এবং মেঘমল্লার বসু ৯.১২ শতাংশ।সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এখনো ৪০.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নেননি। মহিউদ্দিন খান পেয়েছেন ৫২.৯ শতাংশ সমর্থন। তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ১৫.৯ শতাংশ, আশরাফা খাতুন ৯.৪৯ শতাংশ এবং জাবির আহমেদ জুবেল ৪.০৭ শতাংশ।এদিকে ভোটের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল ও শিবির মনোনীত প্রার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, এর পেছনে বিশৃঙ্খলার পাঁয়তারা থাকতে পারে। ডাকসু ভিপি প্রার্থী ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করতে গিয়ে আমরা সবসময় এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু মানুষ রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে আমাদের ওপর সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে, এমনকি আমাদের আইডি ডিসেবল করে দিয়েছে।’স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, ‘ভুয়া আইডি কার্ডের মাধ্যমে বহিরাগতদের প্রবেশ করানো হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের এখানে লাইন জ্যামিং করে ভোটগ্রহণ দীর্ঘায়িত করারও চেষ্টা হতে পারে বলে আমরা শুনেছি।’এর আগে সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন নির্বাচনকেন্দ্রগুলো। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন ডিএমপি কমিশনারও। এদিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা অবনতির কোনো শঙ্কা নেই।ভোট গণনা শেষে আজ রাতেই ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
