কিশোরগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধি সাব্বির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান হামলাকারী গ্রেফতার হয়েছে।ঘটনার ৭ ঘণ্টার মধ্যে (০৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদর মডেল থানার পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে গাইটাল শিক্ষক পল্লী এলাকা থেকে হাসিবুল হোসেন শান্ত (৩০) কে আটক করে।কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’এর আগে রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাব্বির হোসেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি হামলাকারী হাসিবুল হোসেন শান্তসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১১টার দিকে সাংবাদিক সাব্বির হাসপাতালের ভেতরে চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় হঠাৎ হামলা চালায় বিবাদী হাসিবুল হোসেন শান্ত (৩০) ও তার সহযোগী ৩-৪ জন। প্রথমে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং জোর দাবি তোলে— ‘আগে আমাদের বক্তব্য নিতে হবে।’ সাংবাদিক সাব্বির তখন শান্তভাবে অনুরোধ করে বলেন— ‘ভাই, একটু চুপ করেন, আমি এদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। এরপর আপনাদেরও নিব। অতিরিক্ত নয়েজ আসছে।’ এ কথা বলার পরপরই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হাসিবুল ও তার সহযোগীরা সাব্বিরের শার্টের কলার ধরে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে সাংবাদিকের নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় এবং ঠোঁট কেটে রক্তক্ষরণ হয়। পরে আশপাশে থাকা আন্দোলনরত ছাত্ররা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বিলুপ্ত ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন। তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে যেকোনো পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।হামলার শিকার সাংবাদিক সাব্বির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সকাল থেকে কাজ করছিলাম, আন্দোলন সুন্দরভাবে চলছিল। হঠাৎ তারা কেন আমার ওপর হামলা করল বুঝতে পারিনি। আমি মারাত্মক জখম হয়েছি, ঠোঁট কেটে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সাংবাদিকদের যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করব?’ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানান, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
