শরীয়তপুরকে ঢাকা বিভাগ থেকে আলাদা করে নতুন ফরিদপুর বিভাগে যুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শরীয়তপুর জেলা শহরের চৌরঙ্গী শহীদ মামুন চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ঢাকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। জেলা থেকে ঢাকার দূরত্ব ফরিদপুরের তুলনায় অনেক কম। অথচ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে, যা অযৌক্তিক এবং জনস্বার্থবিরোধী।‘জাগো শরীয়তপুর’-এর আহবায়ক আমিনুল ইসলাম জিতু বলেন, ‘শরীয়তপুর ছিল ঢাকা বিভাগের সর্বশেষ জেলা। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি নৌ ও সড়ক যোগাযোগ থাকায় আমাদের চারটি উপজেলা প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াত করে। পদ্মার ওপারে শরীয়তপুরের কিছু ইউনিয়নের সাথেও ঢাকার দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক বন্ধন ঢাকার সঙ্গেই গড়ে উঠেছে। তাই শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা দাবি জানাই—শরীয়তপুরকে ঢাকাতেই রাখা হোক।’শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এইচএম জাকির হোসেন বলেন, ‘ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের মানুষের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই আমরা ঢাকানির্ভর। ফরিদপুর বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা জনগণের মতের প্রতিফলন নয়। এ সিদ্ধান্ত না বদলানো হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’মানববন্ধন শেষে বক্তারা সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান এবং তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
